তানোরে শ্লীলতাহানির ঘটনা ৩ লাখ টাকায় ধামাচাঁপা

তানোর প্রতিনিধি:রাজশাহীর তানোরে অষ্টম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত গ্রন্থাগারিক লম্পট জিয়াউর রহমান ওরফে রাজু আহম্মেদের কাছে থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওই স্কুল ছাত্রীকে রাজুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তুলে নিতে বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাতে প্রধান শিক্ষককের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে সেখানে রাজুর ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং রাজু ৫বিঘা জমি বন্ধক রেখে জরিমানার ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। ফলে গত শনিবার শ্লীলতাহানির শিকার ওই স্কুল ছাত্রী রাজুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় বলে একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক সহকারি শিক্ষক বলেন, জরিমানার ৩ লাখ টাকার মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এক লাখ, সালিশদারগণ ৫০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে বাকি দেড় লাখ টাকা ওই ছাত্রীর পরিবারের হাতে তুলে দেন বিষয়টি এলাকার প্রতিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট বৃহ¯প্রতিবার শ্লীলতাহানির শিকার স্বুল ছাত্রী বাদি হয়ে গ্রন্থাগারিক রাজুর বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত মঙ্গল ও বুধবার সকালে স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল বন্ধ করে দিয়ে রাজুর বিচারের দাবিতে স্কুল চত্ত্বরে বিক্ষোভ করেছে। উল্লেখ, গত ২৫ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুলের সহকারী গ্রন্থাগারিক জিয়াউর রহমান ওরফে রাজু আহম্মেদ প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্কুলে ডেকে ভবনের ছাদে নিয়ে যায় ও শ্লীলতাহানি করে। এদিকে রাজুর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান ওরফে রাজু আহম্মেদ অভিযোগ অশিকার করে বলেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি মহল এই অভিযোগটি উঙ্খপন করেছে। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউর রহমান বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত বৃহ¯প্রতিবার রাজুর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছিল, শনিবার আবার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই রাজুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, যেহুতু রাজুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়েছিল সেহুতু বিসয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে ও সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে টাকা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অশিকার করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ