রাণীনগরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ তদন্ত সম্পূর্ণ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষিকা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের এই দুই পদে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে মর্মে এলাকায় চলছে ব্যাপক গুনঞ্জন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষিকা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ে দ্বন্দ্ব শুরুর কারণে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠ পাঠদানের পরিবেশ। অত্র বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একডালা ইউনিয়নের গুয়াতা গ্রামে ১৯৬৭ইং সালে স্থাপতি হয় গুয়াতা উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২ শ’ ৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৩৫-৪০ জন সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীর জন্য একজন কাব্যতীর্থ শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করতে হবে। কিন্তু সেই সময় এই বিদ্যালয়ে ৩-৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য অর্থের বিনিময়ে কাব্যতীর্থ শিক্ষক হিসাবে ২০০২ সালে নিয়োগ প্রদান করা হয় বসুদেব কুমার পাল নামের এক ব্যক্তিকে। পরবর্তিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে এই শিক্ষক গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম শিশির এর মাধ্যমে নিয়ম বর্হিভূত গত ২১ নভেম্বর ২০১৬ইং সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে পদন্নোতি গ্রহণ করেন। একই ভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্যকে না জানিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষিকা তহুরা বানু নামের একজনকে অবৈধ সহকারি প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ইং সালে নিয়োগ প্রদান করে। নিয়োগ দিয়ে অর্জিত অর্থ সভাপতি প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে একক ভাবে আত্মসাৎ করার কারণে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মাঝে চরম দ্বন্দের সৃষ্টি হয় বলে ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো: সামছুল হক, এসএম সামছুল হক, জাহাঙ্গির আলম ও বাবলু সরদার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সভাপতির স্বজনপ্রীতি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ গত জুলাই মাসের ১২ তারিখে তদন্ত সম্পূর্ণ করে। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত না হতেই তদন্ত রির্পোটকে ধামাচাপা দিতে গত ১৯ শে জুলাই সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির কিছু সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ঘরোয়া বৈঠক হয়। এসব ঘটনার কারণে অত্র বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যাহত হচ্ছে সুষ্ঠ পাঠদান। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই এলাকার অভিভাবক ও স্থানীয়রা অচিরেই বিষয়টির আশু সমাধান কামনা করেছেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
গুয়াতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসুদেব কুমার পাল জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মনো-মালিন্ন্যের সৃষ্টি হওয়ায় তারা বৈঠক করে তা নিরসনের চেষ্টা করছে। আমার কোন বিষয় এর মধ্যে জড়িত নেই। আমি সঠিক নিয়মেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। একই কথা বললেন, সহকারি প্রধান শিক্ষিকা তহুরা বানু।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম শিশির জানান, বর্তমানে আমি একটি কাজে ঢাকা এসেছি। ঢাকা থেকে ফিরে আমি আপনার সাথে সরাসরি কথা বলবো ভাই। এখন আমি একটু ব্যস্ত আছি। তবে একটি কথা আপনাকে বলি, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ শক্রতা মূলক। এলাকায় আমার সুনাম নষ্ট করার একটি প্রক্রিয়া।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো: আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, বিষয়টি আমার আওতার বাহিরে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। তারাই বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন। তবে নিয়োগটা সঠিক রয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোসলেম উদ্দিন জানান, আমি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেছি। তদন্ত ফলাফল রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছি। তিনি তদন্ত ফলাফলের উপড় ভিত্তি করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।