বগুড়ায় কিশোরীকে সেফ হোমে তার মাকে ভিটটিম সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ

উত্তরবঙ্গ নিউজ ডটকম,বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ায় কিশোরী ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার শিকার মেয়েকে সরকারি সেফ হোম ও তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বগুড়ার শিশু আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা. ইমদাদুল হক এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, আমার আবেদনের কারণে আদালত মেয়েকে রাজশাহী বিভাগীয় সেফ হোম ও তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মা ও মেয়ে দুজনেই সেফ হোম বা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তবে, মেয়ের বাবা তাদের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আদালত এ নির্দেশ দেন। বগুড়া জেল সুপার মেয়েকে সেফ হোমে এবং মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠাবেন। আদালতে শুনানিতে অংশ নেন শিশু আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী এ্যাড. আমানুল্লাহ আমান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী এ্যাড, আশিকুর রহমান।
এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার মাকে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত তুফান-রুমকি পরিবার। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শ্রমিক লীগ নেতা তুফানের পরিচয় হয়। এসএসসিতে পাশ করলেও জিপিএ-৫ না পাওয়ায় ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না ওই ছাত্রী। বিষয়টি জানার পর মতিন তাকে ভালো কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানায়। এরপর গত ১৭ জুলাই সকালে তুফান তাকে ফোন করে এবং কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য শহরের চক সুত্রাপুরে তার বাড়িতে ডেকে তুফান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতা ও তার মাকে ২৮ জুলাই ডেকে এনে মাথা ন্যাড়া করে দেয় তুফান সরকারের স্ত্রী, শ্যালিকা কাউন্সিলর রুমকিসহ অন্যান্য সহযোগীরা।
এ ঘটনা প্রকাশের পর মূল নায়ক শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারসহ ৪ সহযোগীকে প্রথম দিনে গ্রেফতার করে তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে দেন আদালত। এর পরেরদিন কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এছাড়াও তুফানের স্ত্রী আশা, তুফানের শাশুড়ি রুমি, তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান, সহযোগী জিতু, মুন্না ও নরসুন্দর জীবন রবিদাসকে দুইদিনের রিমান্ড নেওয়া হয়।
তুফান সরকারকে এরইমধ্যে শহর শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার তুফানের বড় ভাই আব্দুল মতিন সরকারকে শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার দ্বিতীয় দফায় তুফান ও তার সহযোগী মুন্নাকে ২ দিনের এবং তুফানের স্ত্রী আশা বেগম, শাশুড়ী রুমা বেগমকে একদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর শুক্রবার তুফান সরকারকে তৃতীয় দফায় এবং কাউন্সিলর রুমকি দ্বিতীয় দফায় ২ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তুফানের সহযোগি মুন্না আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। গতকাল রবিবার ধর্ষক তুফান এবং রুমকিকে আদালতে হাজির করে ৫ রিমান্ড আবেদন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় না মঞ্জুর করেন। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারাগারের গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।