ভারতীয় গরুর পেটে আসছে ইয়াবা

পলিথিনে ইয়াবা মুড়িয়ে সেটি অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে খাওয়ানো হয়। পরে জবাই শেষে মাংস বিক্রির পাশাপাশি পলিথিন থেকে ‘উদ্ধার’ করা করা হয় সেই ইয়াবা। যে কারণে দিনকে দিনকে ভারতীয় গরুর ভুড়ির কদর বেড়েই চলছে বাজারে!

এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন।

উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন তিনি। পরে সেটি সবার মাঝে আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি গরু চোরাচালান বন্ধে কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে সভাতে বিস্তারিত আলোচনাও করা হয়।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওসি লোকমান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যে কোনো উপায়ে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করতে হবে। গরু আসলে মাদকও আসা শুরু হবে। এছাড়া গরুর পেটে করে যেভাবে ইয়াবা আনা হচ্ছে সেটা উদ্বেগজনক বলেও তিনি আখ্যায়িত করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ উল আলমের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওছার ভূইয়া জীবন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খান, পৌর মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চোরাচালান বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিনিধিরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সভায় বিজিবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কসবা বিওপি নায়েক সুবেদার নূর মোহাম্মদ ও গোসাইস্থল বিওপি কোম্পানি কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন।

এ সময় তারা জানান, সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয় গরুসহ অন্যান্য চোরাচালান বন্ধ করতে। এ বিষয়ে এখন থেকে আরো যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তাতা। তবে  ওসির আগে বক্তব্য দেওয়ায় গরুর পেটে করে ইয়াবা আসার বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পান নি তারা।

সভায় উপস্থিত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, এ ধরনের তথ্য শুনে সবাই অবাক হয়েছেন।

দ্রুত ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয় সভায়। অন্যথায় মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।