বদলগাছীতে বাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ফার্মেসি,অবাধে নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ও ইনজেকশন বিক্রি

আবু সাইদ বদলগাছীঃ নওগাাঁর বদলগাছীতে উপজেলা সদর সহ প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে হাটবাজার ও বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবাধে বাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ওষুধের ফার্মেসি। আর এ সব র্ফামেসি গুলোতে প্রশাসন ও ড্রাগ সুপারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঠ্যাবলেট ও ইনজেকশন। যার ফলে মাদক এর পাশা পাশি নেশাগ্রহস্ত হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ের সাথে মধ্য বয়সী পুরুষ ও মহিলারা। ফার্মেসি গুলোতে গিয়ে হাত বারিয়ে ওষুধের নাম বলতে পারলে খুব সহজেই তাদের হাতে চলে যাচ্ছে মরণ নেশা ঘুমের ট্যাবলেট,ডায়াজিপাম, সিডিল, এ্যমপল পেথেডিন ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে চলছে ক্যাশির সিরাপ ফেনারগান,ডেক্সপোটেন সহ বিভিন্ন এলোপ্যাথিক ওষুধ। যা দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা কিন্তু র্ফার্মেসি গুলোর উদাসিনতার কারনে ডাক্তারের প্রেসকেপশন বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া দেদারছে বিক্রি করায় মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে জীবন ধবংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা ড্রাক সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের নেই কোন মাথা ব্যাথা।
সরজমিনে তথ্য সংগ্রহ কালে দেখা যায়, উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাটবাজার ও মোড়ে মোড়ে প্রায় দেড় শতাধিক ফার্মেসীর দোকান রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ আর.এম.পি ও এম.এল.এফ ডিগ্রী ধারী আবার কাহারো কোন তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতাই নেই। কাহারো কাহারো ড্রাগ লাইসেন্স ও নেই। অথচ তারা দেদারছে নিষিদ্ধ ওষুধ সহ সর্বরকমের ওষুধ বিক্রির পাশা পাশি গ্রামের সহজ সরল মানুষদের চিকিৎসা ও চালিয়ে যাচ্ছে।
ড্রাগ আইন অনুযায়ী ডাক্তারের প্রেসকেপশন বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যে কোন ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ। অথচ বদলগাছী উপজেলায় ওই সব আইনের বালাই নেই। ওষুধের ফার্মেসি দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে জেলা সদরে একজন ড্রাক ইন্সপেক্টর রয়েছেন। তিনি জেলার সকল ওষুধের ফার্মেসীর দোকান গুলো দেখা শুনার পাশা পাশি যোগ্যতাধারীদের লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন। কিন্তু তিনি লাইসেন্স প্রদান করেই শেষ। কোন দিন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে আসেন না। মাঝে মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা একজন প্রথম শ্রেণীর মাজিষ্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। যেই দিন অভিযান পরিচালনা করা হয় সেই দিন অধিকাংশ ওষুধের ফার্মেসী বন্ধ থাকে। হাতে গোনা দু-চার- দশটা দোকান খোলা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। কারন অভিযানের দিন অধিকাংশ ফার্মেসী বন্ধের বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণ বলেন অভিযানের বিষয়টি আগেই ফাঁস হয়ে যায়। তা না হলে কেন ওই দিন ফার্মেসী দোকোন গুলো বন্ধ থাকে। ওষুধ ব্যাবসায়ী ফার্মেসী মালিকদের বড় কর্তাদের গোপন কোন সম্পর্ক রয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অত্র উপজেলায় কত গুলো ওষুধের ফার্মেসি দোকার রয়েছে তাদের নিকট কোন তথ্য নেই। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ওষুধের ফার্মেসির কোন তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। উপজেলায় কয়টা ওষুধের ফার্মেসি দোকান রয়েছে তার তথ্য নিতে হলে জেলাতে এক জন ড্রাগ সুপার রয়েছে তিনি ওই সব দেখা শুনা করেন তার সাথে যোগাযোগ করলে সব রকম তথ্য পাবেন। ডাক্তারের প্রেসকিপশন বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কি ঘুমের ট্যাবলেট,ডায়াজিপাম,সিডিল,এ্যমপল ও পেথেডিন ইনজেকশন,ক্যাশির সিরাপ ফেনারগান,ডেক্সপোটেন এ জাতীয় ওষুধ কোন ফার্মেসি মালিক আবাধে কি বিক্রি করতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ঙ.ঞ.ঈ ড্রাগ ব্যাতিত ডাক্তারের প্রেসকিপশন বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের ফার্মেসি বা দোকানদার কোন প্রকার ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। যদি কেউ করে থাকেন তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

নওগাঁ ড্রাগ সুপার মরুময় সরকারের সাথে গত ৭ আগষ্ট সোমবার বিকেল ৫টা ২২ মিনটে সময় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নওগাঁ ড্রাগ কার্যালয়ের তালিকানুযায়ী বদলগাছী উপজেলায় ১৩৮ টি লাইসেন্স ভূক্ত ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে। এর বেশি ফার্মেসী থাকলে আমার জানা নেই। ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ডিল্পোমা,গ্রাজুয়েট ও কেমিষ্ট ও ড্রাগ সেন্টার থেকে কমপক্ষে ৩ মাসের প্রশিক্ষন প্রাপ্তদের নরমাল ড্রাগ লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারা ডাক্তারের প্রেসকেপশন বা ব্যবস্থাপত্র ব্যাতিত ঙ.ঞ.ঈ ছাড়া কোন ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। যদি কেউ করে থাকে এমন অভিযোগ পেলে ওই সব ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা সদর ছাড়া অপনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফার্মেসি গুলি তদারকি বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন জেলায় প্রায় তিন হাজার ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে একক ভাবে প্রতিদিন যদি ৫ টা করে দোকান পরিদর্শন করি তাহলে বসৎসরে ৩৬৫ দিনে ১৮২৫ টি দোকান পরিদর্শন করা সম্ভব হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিদর্শন করতে যাই না তা একে বারে সঠিক নয়। যাই কিন্তু সার্বিক ভাবে শতভাগ পরিদর্শন করা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া মাত্র ১ বৎসর হলো আমি নওগাঁতে যোগদান করেছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেমন একটা যাওয়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু আমি চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে নওগাঁ সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা খানম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ড্রাগ লাইসেন্স প্রদান বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের কোন প্রয়োজনিয়তা নেই। সম্পূর্ন ড্রাগ সুপারের এখতিয়ার।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ডাক্তার ও এলাকার সচেতন নাগরিক এর সাথে কথা হলে তারা জানান, নেশা জাতীয় দ্রব্য বলতে আমরা মদ,গাঁজা,হিরইন,ইয়াবা কেই বুঝি থাকি। কিন্তু না এ সবের আড়ালে ও কিছু নেশা জাতীয় দ্রব্য রয়েছে যা ভদ্র সমাজের ছেলে মেয়ে ও নারী পুরুষ ব্যবহার করে থাকে, যেমন ঘুমের ট্যাবলেট,ডায়াজিপাম,সিডিল, এ্যমপল ,পেথেডিন ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে চলছে ক্যাশির সিরাপ ফেনারগান,ডেক্সপোটেন সহ বিভিন্ন এলোপাথিক ওষুধ। যা অনাশেই আমরা হাতের নাগালে পেয়ে থাকি। এক শ্রেণীর অসাধু ওষুধের ফার্মেসি দোকানদারেরা ওই সব ওষুধ চিকৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রয় করে থাকে। এতে দিন দিন মানুষ বেশি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লে ও প্রশাসন শুধু মদ,গাঁজা,হিরইন,ইয়াবা নিয়েই বাস্ত থাকে। ড্রাগ সুপারের পাশা পাশি স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের এ দিক টা ও লক্ষ্য রাখা উচিত বলে মনে করেন। তাহলে সমাজ থেকে যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে আমাদের উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ে ও মধ্যবয়সী পুরুষ মহিলাদের ও রক্ষা করতে পারি এবং সমাজকে সম্পূর্ন রুপে মাদক মুক্ত করতে পারি।