বেরোবিতে রেজিস্টারের অপসারণের দাবিতে কর্মচারী ইউনিয়নের কর্মবিরতি

মাহফুজুল ইসলাম বকুল, বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ( বেরোবি) রেজিস্টারের অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সংগঠন কর্মচারী ইউনিয়ন। মঙ্গলবার বিভিন্ন দাবি নিয়ে রেজিস্টারের সাথে দেখা করতে গেলে অসৈৗজন্যমুলক আচরণের অভিযোগে কর্মবিরতিতে যায় তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের হস্তক্ষেপে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাতের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা কর্মবিরতি তুলে নেয়।
তবে একটি সুত্রের দাবি, রেজিস্টারকে অপসারণ করে নতুন রেজিস্টার হওয়ার প্রচেস্টায় একটি গ্রুপ তাদেরকে কৌশলে আন্দোলনে নামিয়েছে।
কর্মচারী ইউনিয়নের অভিযোগ মঙ্গলবার দুপুরে আপগ্রেডেশন-প্রমোশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, ওভার টাইম বেতন প্রদানসহ কয়েকটি দাবী নিয়ে রেজিস্টার দপ্তরে যান তারা। এসময় অনেক্ষণ বসিয়ে রেখে দেখা করার সুযোগ দিলে তারা রেজিস্টার কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারে বসে পড়েন। অনুমতি না নিয়ে চেয়ারে বসায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারীদের বের করে দেন।
এতে তারা অপমানিত হয়ে রেজিস্টারের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে রেজিস্টার বিরোধী শ্লোগান দেন ও কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রক্টর ফরিদ উল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রেজিস্টার ভুল শিকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ও তাদের দাবির বিষয়ে উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ অফিস চলাকালীন সময়ে বসার আশ্বাস দিয়েছেন জানালে কর্মবিরতি তুলে নেয় কর্মচারীরা।
কর্মচারীরা জানান আপগ্রেডেশন-প্রমোশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, ওভার টাইম বেতন প্রদানসহ আমাদের দাবীর বিষয়ে উপাচার্যের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা না হলে আবারো আন্দোলনে যাবেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফরিদ উল ইসলাম কর্মবিরতির কথা নিশ্চিত করে বলেন কর্মচারীরা উপাচার্য স্যারের সাথে বসে তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলবেন।
কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, আমরা কর্মস্থলে যোগদান করেছি। আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, এমনিতেই জনবল সংকটের কারণে রাত আটটা পর্যন্ত আমকে কাজ করতে হয়। তার উপর বিভিন্ন কমিটিতে আমাকে রাখায় খ্বু ব্যস্ত থাকতে হয় । কক্ষে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাদের দুইজনকে আসতে বলা হয়েছিল কিন্তু তারা ৭/৮ জন আমার কক্ষে প্রবেশ করে অনুমতি না নিয়ে চেয়ারে বসে হট্টগোল শুরু করে। আমি তাদের কাছে সময় চাই কিন্তু তারা আগামী রবিবারের মাঝে দাবি পুরণ করতে বলে যা সম্ভব নয়। তখন আমি তাদেরকে উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেই।