কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার গাড়ি বহরে হামলা, আহত ৬০

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কাদের মির্জার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনা এক সংবাদকর্মীসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, ফাঁকা গুলি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে

স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল চাপরাশিরহাট বাজার প্রদক্ষিণ করে চরফকিরা ইউনিয়ন আ’লীগের কার্যালয়ের দিকে যায়। কার্যালয়ে থাকা আবদুল কাদের মির্জা গ্রুপের চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটনসহ নেতাকর্মীরা মিছিলটিতে বাঁধা দেয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একরাম চৌধুরী গ্রুপের লোকজন অস্ত্র দিয়ে মির্জা গ্রুপের লোকজনকে গুলি করতে থাকে। এতে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে মির্জা গ্রুপের ১৫জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আনা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত ডাক্তার পাঁচ জন কে নোয়াখালী জেলারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদেরকে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন জানান, একরামুল করিম চৌধুরীর এপিএস সুনিল দাসের নেতৃত্বে ২-৩শত অস্ত্রধারী বাদলের সমর্থকদের সাথে মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি করে।

অপরদিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা জানান, তথাকথিত এমপি একরাম করিম চৌধুরী এবং নিজাম হাজারীর নির্দেশে মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট চরফকিরা ইউনিয়নের আমার নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের সহযোগিতায় গুলিবর্ষণ করে। এতে আমার অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। একরামের বাড়িতে মিটিং করে ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও ওসি তদন্তের সহযোগিতায় এ হামলা চালায়। এর দায়-দায়িত্ব ওবায়দুল কাদের ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনকে নিতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হক জানান, সংঘর্ষ থামানোর জন্য আমরা ১২ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জে শনিবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে সর্বত্র থমথমে বিরাজ করছে।