তানোরে বহিরাগত নেতাদের তান্ডব,দল নিয়ে টানাটানি চরমে!

সারোয়ার হোসেন,রাজশাহী : উত্তরবঙ্গের আলোচিত সংসদীয় আসন রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী) উপজেলার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা চরম পর্যায়ে উঠেছে। অনেকটাই মাঠ থেকে জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি-জামাত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সংগঠন নিয়ে দুই পক্ষের টানাটানি। এতে করে আওয়ামী লীগের সংগঠন ভুঙ্গে উঠতে শুরু করেছে। এমনকি কেউ বলছেন ত্যাগী আবার কেউ বলছেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শতবর্ষ পরিবার। ফলে, চরম দুটানায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা। এই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান ইউনিয়ন পর্যন্ত। পাশাপাশি বহিরাগত নেতাদের বেড়েছে আনাগোনা। দেখা যাচ্ছে, যে যার মতো আওয়ামী লীগের সংগঠন থেকে আলাদা হয়ে নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে করছেন সভা সমাবেশ। ফলে, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি হাসি ঠাট্টার সংগঠন হিসেবে পরিনত হয়েছে। জানা গেছে, আলোচিত রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বর্তমান তিন বারের সফল সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী রাজনীতিতে আসার পর থেকে তানোর-গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠন পরিচালনা করে চাঙ্গা করেছেন তিনি। অথচ আজ আওয়ামী লীগের সুসংগঠিত শক্তিশালী সংগঠন ভেঙ্গে চুরমার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জনবিচ্ছিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাদের সাথে যোগ দিয়ে বহিরাগত জনবিচ্ছিন্ন ঘাট বিহীন সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। পবা মোহনপুর থেকে বিতাড়িত হয়ে তানোরে শুরু করেছে সভা সমাবেশের নামে এমপি বিরোধী তান্ডব। গোলাম রাব্বানী ও মামুনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনবিচ্ছিন্ন নেতা আসাদ এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে জামাত বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজাকারের সন্তান, তাকে এবার শেখ হাসিনা এমপি মনোনয়ন দিবেনা। এবার গোলাম রাব্বানী কে এমপির মনোনয়ন দিবে শেখ হাসিনা। তাই তানোরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে রুখতে হবে। এছাড়াও নিজ দলের নেতা হয়ে গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক মামুন এমপির বিরুদ্ধে প্রকার্শে বহিরাগত নেতা এনে আওয়ামী লীগের শান্ত পরিবেশ অশান্তি সৃষ্টি করতে মরিয়া হয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী ষড়যন্ত্র করাই তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। যার ফলে,যেকোন সময় বহিরাগত নেতা সহ জনবিচ্ছিন্ন গোলাম রাব্বানী ও মামুনকে দিতে পারে ধাওয়া। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও প্রবীণ নেতা শরিফ খান বলেন, রাব্বানী মামুন পাগল হয়ে পড়েছে, যে রাব্বানীকে এমপি নিজে সুপারিশ করে পরপর দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে দিয়েছে। মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে মেয়র বানিয়েছেন। আর সেই আজ এমপির বিরুদ্ধে গিয়ে এমপি হওয়ার ক্ষোয়াব দেখছেন। আসলে এদের কোন লজ্জা সরম নেই। তা না হলে যে মামুন গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোট করে আজ তাঁকেই বুকে নিয়ে তার সুনাম করছে। এরা দল করতে আসেনি, আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড গায়ে লাগিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করতে এসেছে। এদের বিরুদ্ধে এখুনি দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না করা হলে এরা সুসংগঠিত আওয়ামী লীগের সংগঠন ভেঙ্গে জামাত বিএনপির দখলে মাঠ চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, তানোর গোদাগাড়ীতে এবার এমপির কোন জায়গা হবেনা, এবার তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এমপি হিসেবে আমি মনোনয়ন পাবো। এতে করে এমপিকে যেকোন ভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।