বগুড়ায় ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার  উদ্যোগে আজ  ৮ মার্চ ২০২০বেলা: ১১:৩০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট  জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, সদস্য পূজা প্রামানিক প্রমূখ।
কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনার মূলে ছিল নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহŸান। নারীদিবস ঘোষণার ১১০ বছর পর এবং  মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পরেও আমাদের দেশের নারীরা সমাজিক-পারিবারিক জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে সম-অধিকার থেকে বঞ্চিত।  এতবছর পর এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। কোন সরকারই সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেয়নি। ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও প্রায় সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের (নির্মাণ কাজ, চাতাল, ক্ষেতমজুর ইত্যাদি) নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে ঘরে-বাইরে সর্বত্র নির্যাতন-ধর্ষণ-যৌন হয়রানী।  পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী  সারাদেশে নারী শিশু ধর্ষন নির্যাতন প্রতি বছর বেড়েই চলছে। বিবাহিত নারীদের ৮৬ শতাংশ ঘরেই নির্যাতনের শিকার হন, ৯৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে নানা প্রকার যৌন নিপীড়নের শিকার হন, বাল্য বিবাহ ৫২ শতাংশ এটাই স্বাধীনদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর জীবন চিত্র। এই অবস্থা থেকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নারীদের মুক্ত করতে পারবে না। তাই নারী- পুরুষ সকলে মিলে এই বৈষম্যার- ভোগবাদী  সমাজ ভাঙ্গার আন্দোলন ঐক্যবদ্ধ ভাবে গড়ে তুলতে হবে।
অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাকশিল্পে শতকরা ৬০ ভাগই নারী শ্রমিক। বাংলাদেশ পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ। আর বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বিশ্বের মধ্যে সর্বনি¤œ। যে হারে পোষাক শিল্প শ্রমিকদের বাড়িভাড়া বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে সেই হারে শ্রমিকদের বেতন  বাড়েনি! এই রাষ্ট্র এই সমাজ নারীদের ন্যূনতম যে মানবিক অধিকার তাই দেয় না; সম-অধিকার তো আরও দূরের কথা। আর দেশের  বিচারহীনতার রেওয়াজ এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সৃষ্ট ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ঘরে-বাইরে নারী নিত্যদিন বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন । তাই নেতৃবৃন্দ  নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার কারার আন্দোলনে  নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান।
সমাপনী বক্ত্যেবে রাধা রানী বর্মন বলেন, পুঁজিবাদ মানুষের অসহায়ত্ব, মানুষের আবেগ-অনুভূতি-মূল্যবোধ, নারীর মর্যাদা, নারীর শ্রম-সৌন্দর্য সকল কিছু নিয়েই ব্যবসা করছে। তাই নারীকে একই সাথে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবং এই পুঁজিবাদী-ভোগবাদী  বৈষম্যমূলক সমাজ ভাঙ্গার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে যুক্ত করত হবে। কোন একটা সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী কতখানি অধিকার ও মর্যাদা পেয়ে থাকে তার উপর নির্ভর করে ঐ সমাজ বা রাষ্ট্র কতটুকু গণতান্ত্রিক। তাই  ৮ মার্চ অন্তর্জাতিক নারী  দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারীর মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার এবং সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানবিক-গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহŸান জানান।

সর্বশেষ সংবাদ