তৈলবাজি না করার মেলেনি প্রমোশন: বেরোবি শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস!

নাজমুল হুদা নিমু; বেরোবি, রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল লতিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সোমবার (০৮ মার্চ) দুপুরে তার ব্যক্তিগত Abdul Latif নামের ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রমোশন না পাওয়ায় এই আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন।
তার স্ট্যাটাসটি হলো:
আজকে তাবিউর ভাই, সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন!! এক সাথে জইন্ করেছিলাম। জাপান থেকে পিএইচডি করেছি, বিশ্বের সেরা সব জার্নালে প্রকাশনা করেছি। সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে শিক্ষকতা করবার চেষ্টা করেছি। আমি পেলাম না, ওনারা পেলেন!!! শিক্ষক সমিতির নেতা হিসাবে একবারও মনে হলোনা এক বঞ্চিতের কথা। মাননীয় উপাচার্যকে বলেছি, ওনি ফেসবুকে, পত্রিকায় তাঁর প্রশংসা করে কলাম লিখতে বলেন । সর্বশেষ উপাচার্য মহোদয় কর্তৃক আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগকৃত রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে  তাঁকে সহযোগিতা করতে বলেন। আমি বিনীতভাবে না করেছি। সেলিম স্যারকেও বলেছি-ওনি বলেছেন তিনি নাকি অথর্ব কিছু করতে পারবেন না বরং তিনি কোর্টটাই বানানো বা কলাম লিখতে পরামর্শ দেন। আমি কার্যত কোনদিন শিক্ষক রাজনীতি করিনি বা ইচ্ছাও ছিলোনা। জ্ঞাতভাবে একাডেমিক কোন অন্যায় করিনি। আমার বাবাও একজন শিক্ষক। আমার পারিবারিক বা নৈতিক শিক্ষা আমাকে এই গোলামী করতে বাঁধা দিয়েছে। শুনি এখান থেকে তালিকা যায় কাকে প্রোমোশন দেওয়া হবে আর কাকে বঞ্ছিত করা হবে। এই জুলুম, এই অবিচার একদিন আল্লাহ্‌ বুঝিয়ে নিবেন। ভিসি ডঃ কলিমুল্লাহ স্যার আপনারা মনে রাখবেন আমাকে যে বঞ্ছিত করলেন, জুলুম করলেন আমি আগে মরলে আখিরাতে আর আপনারা আগে মরলে আপনাদের জানাজায় গিয়ে শত মানুষের সামনে এর হিস্যা চাইবো। আল্লাহ্‌ আপনাদের অনুধাবনের সুযোগ দিন। আল্লাহ্‌ সর্বোচ্চ ন্যায় বিচারক!!
উক্ত স্ট্যাটাসের বিষয়ে তিনি রিপোর্টারকে  বলেন, আমি বারবার আমার প্রোমোশনের জন্য বর্তমান অবৈধ বিভাগীয় প্রধান তানিয়া তোফাজ এবং ভিসিকে বারবার ফর্মালি একাডেমিক মিটিং করার এবং আমার প্রমোশন নিয়ে বললেও তারা কোনোভাবেই আমার কথা শোনেন নি। পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, আমি আমাকে আবেদনই করতে দেন নি। এই স্ট্যাটাস নিয়ে বলেন, অনেক অভিমান নিয়েই স্ট্যাটাসটি দিয়েছি। আমার মত আরও অনেক যোগ্য শিক্ষকরাও পদোন্নতি পাননি। অনেকেই তৈলবৃত্তি করে প্রমোশন পেয়েছেন।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উক্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধানও কোনো মন্তব্য করেন নি।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে বারংবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।