জিতেও বিদায় নিতে হলো রোনালদোর জুভেন্টাসকে

এর চেয়েও কষ্টের কিছু আর হয়? নিজেদের মাঠে এফসি পোর্তোকে ৩-২ গোলে হারালো জুভেন্টাস। দুই লেগ মিলিয়ে গোল ব্যবধানও সমান ৪ করে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে জুভেন্টাসকে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে দিলো এফসি পোর্তো। টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হলো রোনালদোদের।

ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। এই অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলারেই বাজিমাত করে পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তো। জুভেন্টাসের মাঠে ২ গোল দেয়ার সুবাধে এগিয়ে যায় তারা। আগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা জুভেন্টাসকে।

ফিরতি লেগে জুভদের মাঠে ৩-১ গোলে হারলেও বিদায় নিশ্চিত ছিল তাদের। কিন্তু হারটা হলো তাদের ৩-২ গোলে। ১০ জনের দল নিয়েও জুভদের ওপর ছড়ি ঘোরাল পোর্তো। ফলে দুই ম্যাচ মিলিয়ে দু’দলেরই গোল দাঁড়াল ৪-৪। পয়েন্ট সমান, গোল সমান। কিন্তু অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে গেলো পোর্তো।

আগের মৌসুমেও ঠিক একইভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল জুভেন্টাসকে। লিওঁর মাঠে গিয়ে তারা হেরে এসেছিল ১-০ গোলে। ফিরতি ম্যাচে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে জেতার পর গোল ব্যবধান ২-২ হলেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে জুভদের বিদায় করে দিয়েছিল লিওঁ। এবারও ঠিক একই কাণ্ড রোনালদোদের সঙ্গে।

১০ জনের পোর্তোকেও ঠিকভাবে বাগে আনতে পারলো না জুভেন্টাস। প্রায় ৭০ মিনিটের বেশি ১০ জনের দল নিয়ে খেলেছে পর্তুগিজ ক্লাবটি। কিন্তু এত লম্বা সময়েও জুভদের রীতিমত নাকানি-চুবানি খাইয়েছে পোর্তো।

মূলতঃ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। অসংখ্য পাস দিয়েছেন গোল করার জন্য। কিন্তু পোর্তোর ডিফেন্সের সামনে গিয়ে কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিক দলটির স্ট্রাইকাররা। উপরন্তু রোনালদোকে অসহযোগিতাই করেছে তার দলের খেলোয়াড়রা। ফাঁকায় পেয়েও রোনালদোকে বল না দিয়ে গোলের দুর্দান্ত সুযোগগুলো নষ্ট করেছে তারা।

জুভেন্টাসের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফেডেরিকো চিয়েসা। শেষ দিকে একটি বল তিনি পেয়েছিলেন, যেখানে রোনালদো ছিলেন পুরোপুরি ফাঁকা। বলটি পাস দিলেই গোল করতে পারতেন রোনালদো। কিন্তু হ্যাটট্রিকের আশায় নিজেই শট নিয়েছিলেন। যার ফলে গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস হয়ে যায়। জুভদের হয়ে বাকি গোলটি করেন অ্যাডরিয়েন র‌্যাবিয়ট।

পোর্তোর হয়ে গোল দুটি করেন সার্জিও অলিভিয়েরা। একটি করেছিলেন তিনি পেনাল্টি থেকে। ৫৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছিল মেহদি তারেমিকে।

জয়ের জন্য মরিয়া ছিল জুভেন্টাস। যে কারণে তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো তারা। কিন্তু ডান দিক থেকে হুয়ান কুয়াদরাদোর ক্রসে আলভারো মোরাতার জোরালো হেড ঠেকিয়ে দেন পোর্তো গোলরক্ষক অগাস্টিন মারচেসিন।

এর একটু পর গোল হজম করতো জুভেন্তাসও। পোর্তোর জোরালো একটি আক্রমণ ডি-বক্সে ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি ব্লক করেছিলেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। পোর্তো ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমির হেড পোস্টের ওপরের দিকে চলে যাওয়ায় বেঁচে যায় জুভরা।

যদিও বেশিক্ষণ জাল অক্ষত রাখতে পারেনি তারা। ১৯তম মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সার্জিও অলিভিয়েরার দারুণ এক স্পট কিকে পিছিয়ে পড়ে জুভেন্টাস। ডি-বক্সে তারেমিকে পেছন থেকে ফাউল করলে পেনাল্টিটি পায় পোর্তো।

২৭তম মিনিটে আবারও হতাশ করেন মোরাতা। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বল বুক দিয়ে নামিয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। অবশ্য সঠিক সময়ে এগিয়ে পথ আগলে দাঁড়ান মারচেসিন।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় জুভেন্টাস। বোনুচ্চির উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়ে সামনেই দাঁড়ানো চিয়েসাকে শট নিতে ইশারা করেন রোনালদো। কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নিতে ভুল করেননি প্রথম লেগের শেষ দিকে দলকে অ্যাওয়ে গোল পাইয়ে দেওয়া এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড।

খানিক পরেই বড় ধাক্কাটা খায় পোর্তো; তিন মিনিটে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তারেমি। ৫৪তম মিনিটে একজনকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড পান তিনি। এর দুই মিনিট পর মাঝমাঠে জুভেন্টাসের দেমিরালকে ফাউল করেন মারেগা। রেফারির বাঁশি শুনেও বলে কিক করে বহিষ্কার হন তারেমি।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরপরই গোল হজম করতে বসেছিল পোর্তো। তবে চিয়েসার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যদিও ৬৩তম মিনিটে সেই চিয়েসাই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ডান দিক থেকে কুয়াদরাদোর দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডে গোল করেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

৭৮ মিনিটে শেষ আটের পথে এগিয়ে যেতে পারতো জুভেন্টাস। কুয়াদরাদোর আরেকটি দারুণ ক্রস ভালো পজিশনে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডে হতাশ করেন রোনালদো। চার মিনিট পর চিয়েসার আরেকটি শট রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মারচেসিন।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মোরাতা জালে বল পাঠালেও গোল মেলেনি। বাতিল হয়ে যায়। দুই মিনিট পর কুয়াদরাদোর বুলেট গতির শট ক্রসবারে বাধা পেলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথম ২৪ মিনিটে দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ১১৫তম মিনিটে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকে ম্যাচে সমতা টানেন অলিভিয়েরা। অনেক দূর থেকে তার নেওয়া নিচু ফ্রি-কিকে বল লাফিয়ে ওঠা রক্ষণ প্রাচীরের নিচ দিয়ে জড়িয়ে যায় জুভেন্টাসের জালে। গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি ঝাঁপিয়ে বলে হাত লাগালেও রুখতে পারেননি।

দুই মিনিট পরই অবশ্য আবারও ম্যাচে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস। ফেডেরিকো বার্নারডেস্কির ক্রসে হেডে দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ৪-৪ করেন আদ্রিওঁ রাবিও; কিন্তু বাকি সময়ে পোর্তোর রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে ম্যাচ জিতেও হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোদের।