করোনায় থেমে নেই পড়ালেখা’

পুরো এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেল করোনা মহামারীর । এ সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অভিনব ধারায় পাঠদানে নজির স্থাপন করেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘ ইব্রাহিম মেমোরিয়াল মডেল স্কুল’ । পুরো এক বছর ধরে সকল শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে পাঠদান করে আসছে স্কুলটি। তার জন্য নিচ্ছে না কোন টাকা বা ফি ।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের এ পাঠদানের ব্যপারে ‘ ইব্রাহিম মেমোরিয়াল মডেল স্কুল’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইউনুস আলী বলেন- আমাদের স্কুলের স্লোগান হল- “মানসম্মত শিক্ষাই আমাদের লক্ষ্য” । আমরা স্কুলের সকল শিক্ষক ও পরিচালনা পর্শদ এই চেতনাকেই ধারন করি । করোনার জন্য শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে আমরা তার কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেছি । যেহেতু অনলাইনে ক্লাস নেবার মত সুযোগ সুবিধা গ্রামাঞ্চলে পুর্নভাবে নাই তাই আমরা ভিন্ন ভাবে পাঠদানের চিন্তা করেছি । আমাদের সকল শিক্ষক অক্লান্ত পরিশ্রম ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অসাধ্য কাজটি করেছেন । আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় নোট, সাজেশন ও প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছি । তবে এর জন আমি অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে চাই । তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব ছিলনা । এখন করোনা শিথিল হলেও পুরো প্রভাব কাটেনি । এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী করোনা মোকাবেলার সকল প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা । আমাদের স্কুলে স্থাপন করেছি অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড থার্মোমিটার । যা একই সাথে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপবে ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার স্প্রে করবে । স্কুলকে ডিজিটালাইজেশনের আয়তায় আনতে বায়োমেট্রিক ডিভাইজ, স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ও সকল শিক্ষার্থীর জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড এর ব্যবস্থা করেছি । আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে সচেষ্ট থাকি । তিনি আরও বলেন – আমরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে এই পাঠদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো যতদিন না স্কুল খুলবার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসে । ‘ইব্রাহিম মেমোরিয়াল মডেল স্কুল’ এর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ এলাকার সচেতন নাগরিক ।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের ভিন্নধর্মী পাঠদানের মাধ্যমে অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । আধুনিক ও উন্নত শিক্ষার মান মনিটরিং এর জন্য এই স্কুলে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত কোয়ালিটি টিম । দুর্বল ও অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের নেয়া হয় বিশেষ যত্ন । এ ছাড়াও অসচ্ছল এবং এতিম শিক্ষার্থীরা এ স্কুলে অর্ধমূল্য ও বিনামূল্যে পাঠ গ্রহনের সুযোগ পেয়ে থাকে ।