জীর্ণ ব্যাটিংয়ে বাজে হার বাংলাদেশের

ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। চোট কেড়ে নিয়েছিল রস টেইলরকেও। দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশ শিবিরে হালকা স্বস্তির সঙ্গে জাগিয়েছিল দারুণ আশাও। না জানি এই ম্যাচেই দেখা মেলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অধরা জয়ের। কিন্তু না, ওই আশায় গুড়ে বালি। বরং জীর্ণ ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীতে বাজে হারে নিউজিল্যান্ড মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। শনিবার ডানেডিনে প্রথম ওয়ানডেতে টাইগারদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালের মাঠটি ছিল তুলনামুলক ছোটই। এই মাঠে রান উৎসব হয় নিয়মিত। কিন্তু বাংলাদেশ খেই হারিয়ে ফেললো শুরু থেকেই। বাজে শটে থিতু হতে পারল না বলতে গেলে কেউই।
তারপরও দু-একজন মাটি কামড়ে থাকার চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষটা হলো তো বিষাদময়। বাংলাদেশ খেলতে পারলো না ৫০ ওভার। ৪১.৫ ওভারে অল আউট ১৩১ রানে। আগে ব্যাট করে গত তিন বছরে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর এটি। কিউইদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। জবাবে নিউজিল্যান্ড ওই উইকেটেই দাপটের সাথে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ২ উইকেট হারিয়ে, ২১.২ ওভারেই।

যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা হাঁসফাঁস করলো রানের জন্য, সেখানে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চার ছক্কার ফুলঝুড়ি সাজালেন কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল। দ্রুতই ৫০ ছুলো দলটি। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন। তাসকিনের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন গাপটিল। কিন্তু যাওয়ার আগে দলের জ্বালানি তিনিই দিয়ে যান। ১৯ বলে করেন ৩৮ রান। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কার মার।

এরপর অবশ্য রানের গতি কিছুটা মন্থর হয়। স্পিন ও পেস অ্যাটাকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয় অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে ও নিকোলসকে। তবে সব সামলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন এই জুটি।
এই জুটি যখন ভাঙে তখন নিউজিল্যান্ড প্রায় জয়ের কাছাকাছি। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় বিদায় নেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কনওয়ে। ৫২ বলে দুই চারে ২৭ রান করে তিনি হাসানের বলে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহর।

জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু নিকোলস সেরেছেন অভিষিক্ত উইল ইয়ংকে সঙ্গে নিয়ে। ৫৩ বলে ৬টি চারে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন নিকোলস। ৬ বলে দুই চারে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা উইল ইয়ং। বল হাতে একটি করে উইকেট নেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন ও হাসান মাহমুদ। দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। শুরুর আভাস ছিল আশা জাগানিয়া। বোল্টের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই নয়নকাড়া ছক্কা তামিমের। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে চিত্র পাল্টেছে। দেখা মিলেছে কিইউ পেসারদের দাপট। যাদের বাউন্স আর গতির কাছে অসহায় আত্মসমর্ণন ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেটের পতন বাংলাদেশের। বোল্টের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ তামিম। ১৫ বলে এক চার ও এক ছক্কায় বাংলাদেশ অধিনায়ক করেন ১৩ রান। আউট হওয়া বলটি সুইং করবে ভেবেই খেলেছিলেন তামিম। কিন্তু বোল্টের ডেলিভারির সোজা গিয়ে লাগে প্যাডে। নেননি রিভিউ।
একই ওভারে জীবন বিসর্জন সৌম্য সরকারের। বোল্টের বলে মারলেন ডাক। ৩ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেনি। অভিষিক্ত কনওয়ে নেন তার প্রথম ক্যাচ।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন লিটন ও মুশফিক। ২৩ রানের এই জুটি ভাঙেন নিশাম। দলীয় ৪২ রানে বিদায় নেন লিটন। নিশামের প্রথম ওভারেই শর্ট অব লেংথ বলে আলতো ক্যাচ তুলে দেন মিড অনে। লিটনের ইনিংস শেষ হয় ৩৬ বলে ১৯ রান করে।

মুশফিকুর রহিমকে শুরু থেকেই শর্ট বল করার কৌশল নিয়েছিল কিউইরা। বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়লেও টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন মুশি। সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। দলীয় ৬৯ রানে এই জুটি ভাঙেন ওই নিশামই। আউট এবার মুশফিক। ৪৯ বলে দুটি চারে ২৩ রান করে ফেরেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

এরপর আত্মহুতি লিটনের। হয়ে যান রান আউট। ২৭ বলে তার সংগ্রহ ১ চারে ৯ রান। ৭২ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখনো বিপদের মধ্যে। শেষ অবধি এই বিপদ আর কাটেনি। ধারাবাহিক বিরতিতে পড়েছে উইকেট।

১০ বলে ১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজ আউট সান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে অভিষিক্ত মেহেদী ও তাসকিনের দুটি খণ্ড জুটিতে ১০০ পার করে বাংলাদেশ। না হলে কপালে আরো খারাপ হতে পারত।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে রিয়াদের জুটি ২০ রানে, তাসকিনের সঙ্গে ২৭ রান। ৪১.৫ ওভারে অল আউট বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রানের ইনিংস আসে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। ৫৪ বলের ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা।

মেহেদী হাসান ১৪, তাসকিন ১০ রান করেন। দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের রান সমান ১। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪টি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। নিশাম ও সান্টনার দুটি, হেনরি এক উইকেট লাভ করেন।

বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসানের। নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় ডেভন কনওয়ে, উইল ইয়াং ও মিচেলের।

তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। আগামী ২৩ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

সর্বশেষ সংবাদ