বগুড়ায় টাকার জন্যে ৭০ বছরের নানীকে জবাই করে হত্যা করেছে নাতি

সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে জবাই করে হত্যা করা হয় আছিয়া বেওয়া নামের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধাকে। ঘটনার পর ঐ রাতেই ৪০ মিনিটের মাঝেই হত্যার মূলরহস্য উন্মোচন করে হত্যার দায়ে মৃতের নাতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং একই সাথে জব্দ করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু।
গ্রেফতারকৃত আসামী মো: ইয়াকুব আলী (১৯) সদরের বালাকৈগাড়ী (দক্ষিণপাড়া) এলাকার মিলন প্রাং এর ছেলে যে পেশায় একজন লেদমিস্ত্রী।
বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে নাতির হাতে নানী খুন চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য উন্মোচনের বিস্তারিত জানিয়ে ব্রিফ করেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার)। পূর্বের থাকা জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং নানি আছিয়া বেওয়ার নিকটে থাকা গরু বিক্রির টাকাসহ মোট ৩৫ হাজার টাকার হাতিয়ে নেওয়ার লোভে এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আরো জানান, জমি-জমার বন্টন নিয়ে ইয়াকুবের মা-বাবার সাথে তার নানী আছিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি আছিয়া বেওয়া ৩০হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে এবং ঈদকে সামনে রেখে আছিয়ার এক আত্মীয় তাকে ৫ হাজার দান করেন। নানির কাছে এই ৩৫ হাজার টাকা আছে এমন সংবাদে মৃত আছিয়ার নাতি ইয়াকুব মঙ্গলবার মাগরিব নামাজের পর নানীর কাছে গিয়ে ডিম দিয়ে ভাত খাওয়ার কথা বলে এবং নানিকে প¦ার্শবর্তী দোকান থেকে ডিম ও তার জন্যে সিগারেট কিনতে পাঠায় এই সুযোগে পুরো ঘর তছনছ করে সেই টাকা খুঁজতে থাকে নাতি এরই মাঝে নানী এসে পরলে নানীর কাছে সেই টাকার কথা জিজ্ঞেস করে যাতে দুজনের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নাতি ইয়াকুব তার কাছে থাকা বার্মিজ চাকু দিয়ে নানীর গলায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে বৃদ্ধা নানী মাটিতে লুটিয়ে পরলে নাতি ইয়াকুব তার আঁচলে থাকা ২ হাজার ৮’শ টাকা নিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু পাশের এক ডোবার কিনারায় ফেলে চলে যায়।
এ ঘটনার পর চারিদিকে হৈ চৈ পরে গেলে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে সদর ওসি সেলিম রেজা এবং ডিবির ওসি আব্দুর রাজ্জাক, সদর থানার এসআই সোহেল রানাসহ সঙ্গীয় ফোর্সের অভিযানে ৪০মিনিটের মাঝেই সেই ঘাতক নাতিকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার মূল রহস্য উন্মোচিত হয়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি নিজের নানীকে হত্যা করে হত্যার সময় গায়ে থাকা রক্তমাখা হলুদ টি-শার্ট পরিবর্তন করে নিজ ঘরে নিশ্চিন্তেই ঘুমাচ্ছিল সেই ঘাতক নাতি। পুলিশের অভিযানে সেই টি-শার্ট, হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বার্মিজ চাকু এবং হত্যার পর নানীর আঁচল থেকে নেয়া সেই ২ হাজার ৮’শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
উক্ত হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) বলেন, গ্রেফতারকৃত ইয়াকুব প্রাথমিকভাবে সে তার দোষ স্বীকার করেছে তারপরেও আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে তিনি বর্তমান সমাজের নেতিবাচক পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপের সুরে বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবাকে একা রাখা সত্যিই কতটুকু বিবেকের পরিচয়। তিনি সকলকে নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে উঠা এবং নিজেদের মা-বাবাকে নিজেদের দায়িত্বে শেষ নি:শ^াস পর্যন্ত ভাল রাখার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সংবাদ