রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তি হওয়া চিনা চাষে কৃষক আগ্রাহ ফিরে পাচ্ছে

রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ    রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কৃষকগণ চিনা চাষে বেশ ঝুকে পড়েছেন। চিনা চাষে খরচ কম, ফলনভালো, সেচ কম লাগায় উৎপাদন খরচ কম, বাজারে দাম বেশী হওয়ায়  বিলুপ্ত হওয়া এ চিনা চাষে কৃষকদের মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
 আগে চরাঞ্চলে চিনা চাষ হলেও এখন চরাঞ্চলের পাশাপাশি গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলেও হচ্ছে ব্যপক হারে চিনা চাষ। গোদাগাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে জেগে উঠা চরে   চিনার চাষ করা  হচ্ছে। প্রতিবছর শীতকালে এ নদীর কয়েক হাজার হেক্টর চর জেগে উঠে। আর জেগে উঠা চরে নদী পাড়ে কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। তার মধ্যে অন্যতম চিনা চাষ।
চিনা চাষ করতে কোন মৌসুম লাগে না। যে কোন সময় করা যায়। এমনকি কোন খরচ নাই বললেই চলে। বিনা খরচে এ চিনা চাষ হয় বলে লাভও ভাল হয় কৃষকদের।
বাজারে এর  চাহিদা বেশী। চলতি বছরেও চিনা বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকেরা আশা করছেন। ফলে কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। চলতি বছর চিনা চাষ জেলার মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলার মধ্যে বেশি হয়েছে।  ৯ নং চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে চিনা বেশী চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় চিনা ভাল জন্মে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৯০ হেক্টোর জমিতে চিনা চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চিনা চাষ হয়ে ছিল প্রায় ৬০ হেক্টোর জমিতে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই চিনা না চিনলেও এক সময় চরাঞ্চলে এর ব্যাপক আবাদ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় চিনার কোনো আবাদ না হওয়ায় এটি এখন মানুষের মাঝে প্রায় অচেনা। অথচ এই চিনা ধানটি হয়ে উঠতে পারে এ এলাকার অর্থনৈতিক আরেকটি ফসল।
গোদাগাড়ীর  কৃষক আব্দুল মাতিন বলেন চিনা চাষ করতে তেমন খরচ বেশি হয়না। শুধু মাত্র বীজ বোপন করলেই চিনার গাছ বেড়ে উঠে। মাঝে একবার সামান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েনা। তিনি আরো বলেন, বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাই। বাজারে এর দামও ভাল। গত মৌসুমে মণ প্রতি তিন থেকে চার তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
চিনা চাষি শরিফ  বর্তমান বাজার মূল্য মণ প্রতি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, চিনা খরা মৌসুমের ফসল, গভীর থেকে রস ধারন করে, একবার সেচ দিলেই চলে। বপনের ৬০ দিনের মধ্যে জমি থেকে চিনার ফলন  পাওয়া যায়। চিনা চাষ করতে তেমন খরচ হয়না। একবার সার দিলেই চলে। রোগ বালাই কম হওয়ায় কোন কটিনাশক ব্যাবহারের প্রয়োজন হয় না। অল্প খরচ ও অল্প পরিশ্রম করেই এ ফসল ফলানো সম্ভব। বাজারে চিনার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভোবান হচ্ছে। অর্থকারী ফসল হিসাবে চিনা চাষের খুবই উজ্জ্বল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে এ উপজেলায়। আগামীতে আরও বেশী পরিমান জমিতে চিনা চাষ করা হবে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ সংবাদ