লাইভ অ্যাপে সুন্দরী তরুণীর ফাঁদ, পাচার হচ্ছে শতকোটি টাকা

ডিজিটাল কারেন্সি দিয়ে প্রতারণার নয়া কৌশল। স্ট্রিমকার অ্যাপে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের লাইভে এনে পাতা হচ্ছে ফাঁদ। অনেকে সেই ফাঁদে পা দিয়ে অনলাইন কারেন্সি কিনে ‌তা উপহার দেন তরুণীদের। পরে স্ট্রিমকার অ্যাডমিনদের কাছ থেকে এই কারেন্সি কিনে তা চ্যাটকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রতারকচক্র। পুলিশ বলছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে পাচার হচ্ছে শতকোটি টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ স্ট্রিমকার। ব্যবহারকারীরা সাধারণত সুন্দরী মেয়ে ও সেলিব্রিটিদের জন্য আড্ডা দেওয়ার জন্য এই অ্যাপটি ব্যবহার করেন।

সুন্দরী মেয়ে ও সেলিব্রিটিরা হোস্ট এজেন্সি নামক একটি প্রতারকচক্রের মাধ্যমে প্রথমে এই অ্যাপের হোস্ট আইডি খোলেন। তারপর এসব তরুণীদের সঙ্গে যারা‌ আড্ডা দিতে আসেন তাদের হোস্ট এজেন্সির কাছ থেকে বিন্স নামক এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি বা মুদ্রা কিনে তা সুন্দরীদের গিফট করতে হয়। আর এই ডিজিটাল কারেন্সি -বিনস হোস্টদের কাছে গেলেই তা জেমস নামক ডিজিটাল কারেন্সিতে রূপান্তরিত হয়। আর এক লাখ জেমস’র মূল্য ৬০০ টাকা।

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বাংলাদেশে স্ট্রিমকার ব্যবহার করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কে মাধ্যমে এগুলো তারা ব্যবহার করছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মূলত চ্যাটিং করে থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য অপশনের মধ্যে জুয়াও রয়েছে।

লাইভে থাকার জন্য সুন্দরী মেয়েদের প্রতি মাসে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন।

স্ট্রিমকার অ্যাডমিন প্যানেল থেকে এই মুদ্রা ক্রয় করে তা ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করে হোস্ট এজেন্সি । লোভনীয় ফাঁদে লাইভ স্ট্রিমিং এনে ব্যবহার কারীদের সঙ্গে প্রতারণাও করা হয়। পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে এ ধরনের ১২ থেকে ১৫ জন এজেন্ট রয়েছে যারা প্রতি মাসে প্রায়শ’ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।

ইউনিটের আরেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম বলেন, দেশের কিছু সুন্দরী তরুণী নিজের অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তারা মাসিক বেতনে চুক্তিবদ্ধ হয়।

পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান জানান, দেশের সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী স্ট্রিমকার অ্যাপ ব্যবহারকারী ওই চক্র প্রায় শতকোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে।

সম্প্রতি ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট।

সর্বশেষ সংবাদ