সাংবাদিক রোজিনার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বগুড়ায় বাসদ এর মানববন্ধন

প্রেসবিজ্ঞপ্তি/ তারিখ: ২০ মে ২০২১ ইং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নি:শর্ত মুক্তি, হেনস্থাকারী কর্মকর্তার শাস্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাংবাদপত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে- বগুড়ায় বাসদ এর মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গত ১৭ মে ২০২১ তারিখে সচিবালয়ে ৬ ঘণ্টা আটক রেখে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি, তাকে হেনস্তাকারী কর্মকর্তাদের শাস্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাংবাদপত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ-২০ মে ২০২১ বেলা ১১:৩০টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেণ বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন, সমাবেশ সঞ্চালনা করেণ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গত-১৭ মে ২০২১তারিখে সচিবালয়ে ৬ ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা, গ্রেপ্তারও মামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে রোজিনার মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, রোজিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি বিনা অনুমতিতে স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিবের রুম থেকে গোপনীয় কাগজপত্র সরানো ও মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে অপরাধ করেছেন, তাই তার নামে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিকিউরিটি এ্যাক্ট এ মামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকী স্বরূপ। সচিবালয় সর্বোচ্চ সংরক্ষিত এলাকা সচিবালয়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, যদি রোজিনা বিনা অনুমতিতে কোন ফাইল নিয়ে থাকেন বা ছবি তুলে থাকেন তা ফুটেজে থাকার কথা কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার প্রশাসন তা দেখাননি। তিনি বলেন বর্তমান ভোট ডাকাতির সরকার পুলিশ ও আমলাদের মাধ্যমে ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় এসেছে ফলে আমলাদের দৌরাত্ম সীমা ছাড়িয়েছে। যার প্রকাশ সাংবাদিক রোজিনার উপর সচিবালয়ে নির্যাতনের ঘটনা। সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দুর্নীতির কথা আজ দেশের সকলের জানা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিশাল চিত্র ইতিমধ্যেই জনসম্মুখে প্রকাশিত। করোনাকালে রিজেন্ট, জিকেজির দুর্নীতি, পূর্বে মিঠু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, স্বাস্থ্যের ডিজির গাড়ী চালকের দুর্নীতির খবরও দেশবাসী জানে। সম্প্রতি ১৮০০ টেকনোলজিস্ট নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য, ৯ সরকারি হাসপাতালে ৩৫০ কোটি টাকার জরুরি কেনা কাটাসহ বেশ কিছু লোমহর্ষক দুর্নীতি অনিয়মের অনুসন্ধানী খবর রোজিনা ইসলাম এর রিপোর্টে দেশবাসী জানতে পেরেছে। তিনি বলেন, রোজিনাকে আটক রাখা, মিথ্যা মামলা এবং গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ ওই সব কর্মকর্তাদের আক্রোশের ফল। সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে দেশে-বিদেশে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিবরণ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতি করা ছাড়া সৎ পথে বেতনের টাকায় একজন সরকারি কর্মকর্তা কি করে এতো সম্পদের মালিক বনে যান। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকতাদের সম্পদ অর্জনের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোজিনাকে নির্যাতনকারী কর্মকতাকে অপসারণ,গ্রেপ্তারও বিচারের দাবি জানান। একই সাথে অবিলম্বে রোজিনার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং বাক-ব্যক্তি, সাংবাদিক, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধকারী কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানান।
Aa

সর্বশেষ সংবাদ