বগুড়ায় চুরির পর রেখে যাওয়া হচ্ছে মোবাইল নম্বর

স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়ায় গভীর নলকূপের (সেচপাম্প) বৈদ্যুতিক মিটার নিয়মিতই চুরি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রটি সেচপাম্প চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে আর রেখে যাচ্ছে তাদের মোবাইল ফোন নম্বর। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকায় আবার ফেরত দিচ্ছে সেচপাম্প। এসব ঘটনায় জেলার চারটি উপজেলার কৃষকরা এখন হয়রানির শিকার হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথমে চক্রটি বিদ্যুতের মিটার চুরি করে। এরপর মিটারের জায়গায় মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। সেই নম্বরে কল করলে মিটার ফেরত পেতে গ্রাহকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এভাবে চুরি করা বৈদ্যুতিক মিটার ফেরত দিতে প্রতি মিটারের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করছে চক্রটি।তবে চক্রটি এখন আর বিকাশ নম্বর দিয়ে চাঁদা দাবি করে না। কৌশল বদলে এখন তারা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি করে নিয়ে যায়। চক্রটি বগুড়ার কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, শেরপুর উপজেলায় সক্রিয়। তবে কাহালু ও নন্দীগ্রাম থানা এলাকায় চক্রটি বেশি সক্রিয়।কয়েক দিন আগে রাতে কাহালু থানার কালাই ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় নতুন করে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির ঘটনা ঘটেছে। যদিও এর আগে মিটার চুরি করে নিয়ে গেলেও বিকাশে চাঁদা দাবি করে নম্বর দিয়ে যাওয়া হতো। পরে বিকাশে টাকা পেলে তারা মিটার ফিরে দিতো। এবার আর মিটার নয় ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় বগুড়ার কাহালু থানায় জিডি করা হয়েছে।এদিকে, গত ৭ মে কাহালু উপজেলার জামগ্রাম সুখানগাড়ী এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল ও সিএনজিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের ১২টি তামার কয়েল, চোরাই কাজে ব্যবহৃত সিএনজি ও চুরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পুলিশ বলছে, এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় এই চক্রটি গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশও তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরুকরেছে।বগুড়ার কাহালু থানার ওসি আমবার হোসেন জানান, যেসব এলাকায় সেচ পাম্প রয়েছে সে সব এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ৭ মে একটি সিএনজিসহ ১১০ কেজি সেচপাম্পের কয়েলের তামার তারসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। কৃষি এলাকা বলে এই অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ