বগুড়ার উন্নয়নে উন্নয়নমুলক বাজেট চাই যেন আ’লীগ বার বার নির্বাচিত হয়-দুলু

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মধ্যে বগুড়া একটি অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা। উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যিক শহর বগুড়ায় দিন দিন ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে।কৃষি আর কৃষিযন্ত্রাংশ তৈরীর ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ভূমিকা। যুগযুগ ধরে শিল্প কলকারখানা থাকলেও হয়ে উঠেনি আধুনিকায়ন। সে কারণে সকল পণ্য এখনো রপ্তানীমুখি হয়নি। শিল্পায়নের জন্য যে সকল সুযোগ সুবিধা দরকার সেটিও মেলেনি। ব্যবসার প্রসার ঘটে যেমন আর্থিক গতি পেয়েছে তেমনি জাতীয় বাজেট বরাদ্দে এ শহরের মানুষের রয়েছে নানা দাবী দাওয়া। বগুড়ার ব্যবসায়ি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবারের বাজেটে কৃষি, শিল্পকারখানা ও নগরের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্ধের দাবী তুলেছেন।
বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, বগুড়া কৃষি এলাকা। সে কারণে বগুড়ায় কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরীতে অসংখ্য কলকারখানা গড়ে উঠছে। এই কলকারাখানাগুলো যতটায় উৎপাদনমুখি হবে ততটায় দেশের অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক গতি বাড়বে। কিন্তু কোন কারণে যন্ত্রাংশ তৈরীতে সংকট সৃষ্টি হয় বাধা প্রাপ্ত হয় তাহলে বগুড়ার কৃষিখাতেও বাধা হবে। এ কারণে আসছে বাজটে বগুড়ার নগর উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, গ্রামীণ জনপদের সড়ক, কৃষি, কৃষক ও কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরীতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। এই উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে ধরে রেখে আরো এগিয়ে যেতে বগুড়ার নদীপথ-রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে বিমানবন্দর চালু করতে হবে। বগুড়ার উন্নয়নে উন্নয়নমুলক বাজেট চাই। যেন বগুড়ার মানুষ আগামীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বার বার ভোটের মাধ্যমে জয়ী করে জাতীয় সংসদে প্রেরণ করেন উন্নয়নের জন্য। যদিও আওয়ামী লীগ এখনে উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। প্রতিটি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে।
আসাদুর রহমান দুলু বলেন, বগুড়া ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম স্থান। এখানে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক উদ্যোক্তা। সম্প্রতিকালে অনেক উচ্চ শিক্ষিতরাও ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে আসছেন। তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তারা সুযোগ পেলে ব্যবসায় এগিয়ে যাবে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আছে। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সফল। বাজেটে নাগরিক হিসেবে বগুড়ার উন্নয়নে বাজেট চাই। এই জেলার কিছু সমস্যা দীর্ঘ দিনের। বিমানবন্দর চালু করা, জেলার করতোয়া নদীকে ড্রেজিং করে দুই পাড় সংস্কারের মাধ্যমে যানজট এড়াতে সড়ক নির্মাণ করা, শহরের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে যানজটের ভোগান্তি কমাতে ওভার ব্রীজ নির্মাণ করা, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি স্কুল নির্মাণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা এখন অতি জরুরী। উচ্চ শিক্ষার জন্য পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা, কৃষি এলাকা হওয়ার কারণে কৃষিকে আরো আধুনিকায়ন করে ফলন বৃদ্ধি করা। যদিও সরকার এসব নিয়ে ভাবছে। কৃষির উন্নয়নমুলক কর্ম ইতিমধ্যে মাঠে এসেছে। তারপরও পুরো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে আরো কিছু কর্মসূচি হাতে নেওয়া, যেন কৃষির ফলন বৃদ্ধি পায়। এই জন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রয়োজন। বগুড়ার উন্নয়নে এই বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখবে। বাজেটে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে নগর উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক এর জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। বাজেটে এদেশের মানুষের স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে সরকার যেমন কাজ করে যাচ্ছেন তেমনি নাগরিকদের পরামর্শও গ্রহণযোগ্য। যে কোন বাজেটে ব্যবসায়িদের সুযোগ থাকে, তেমনি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বেকারত্ব, দারিদ্রতা যেন হ্রাস পায় সেটি বাজেটে থাকতে হবে। উন্নয়ন বান্ধব সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া উন্নয়নমুলক বাজেট। যেখানে প্রতিটি বিভাগ উন্নয়নের আওতায় আসবে।