করোনাকালে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা রোধে বগুড়ায় ছুটে চলেছেন ইয়ূথ লিডার পুষ্পা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতি ভাইরাস কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ^ব্যাপী সকলেরই জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। একই সাথে বাংলাদেশে থেমে থেমে চলা বিভিন্ন সময়ের লকডাউনে জীবন বাঁচাতে মানুষ থেকেছে গৃহবন্দী হয়ে। দীর্ঘ সময় পুরুষদের ঘরে থাকার দরুণ বিভিন্ন স্থানে শোনা গেছে পারিবারিক নানা সহিংসতার ঘটনাও।
এমন পরিস্থিতিতে করোনাকালেও বগুড়ার গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন অলিগলিতে এই লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) বন্ধে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করে যাচ্ছে ইয়ূথ ভলেন্টিয়ার পুষ্পা খাতুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত উঠান বৈঠক, বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামের সকল বয়সী নারী-পুরুষদের নিয়ে টেলিশেসন পরিচালনা, সহিংসতা বন্ধে সচেতনতামূলক অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা, গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি তাদের তা সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান, কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর জন্যে রেজিষ্ট্রেশন এর ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ ক্রান্তিকালে পারিবারিক ও সামাজিক কোন অঙ্গণেই যেন লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা না হয় সেই লক্ষ্যে খন্ড খন্ডভাবে প্রতিনিয়ত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সের এই ইয়ূথ লিডার।
বগুড়া সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম) নামের এক সেবাগ্রহীতা নারীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, করোনা হওয়ার পর থেকে তাদের পারিবারিক আয় কমে গিয়েছিল। তারমাঝে লকডাউনে তার স্বামী সারাদিন বাড়িতে থাকার জন্যে প্রতিনিয়ত অশান্তি লেগেই থাকতো এবং বিনাকারণে তাকে মারধরও করা শুরু করেছিল তার স্বামী। তখন তাদের গ্রামের মেয়ে পুষ্পা তার স্বামীকে এসে কাউন্সিলিং করেছিল এবং আইনের বিভিন্ন ধারা বোঝানোর পর থেকে তার স্বামী আর তাকে মারধর করেনি।
শুধু রোজিনা আক্তারই নয় পুষ্পার এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখন সরকারি বিভিন্ন জরুরী হটলাইন যেমন ৯৯৯, থানা ও কোর্টে থাকা নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের সেবা, আইনে থাকা তাদের প্রাপ্য অধিকার, বিভিন্ন প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের নম্বর ও মাধ্যম সম্পর্কে আজ সচেতন হতে পেরেছে যা সত্যিই এক অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন।
বগুড়া ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি ও দৈনিক চাঁদনী বাজারের স্টাফ রিপোর্টার সঞ্জু রায়ের সাথে কথা বললে পুষ্পার সম্পর্কে তিনি বলেন, পুষ্পা ছোট থেকেই পরিশ্রমী ও মেধাবী। সে সফলভাবে বগুড়া শিশু ফোরাম ও ন্যাশনাল চিলড্রেনস্ টাস্ক ফোর্স বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয় শিশুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক হিসেবে ১ ঘন্টার প্রতীকি দায়িত্বও পালন করেছেন। করোনাকালের শুরু থেকে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রমের পাশাপাশি বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে পুষ্পা যেভাবে ছুটে চলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে পুষ্পা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দেশের এই ক্রান্তিকালে সময় এসেছে সকলের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক দায়িত্ব পালনের। একজন মেয়ে বা নারী চাইলে সমাজে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে সেই প্রচেষ্টায় তিনি করে যাচ্ছেন। সহিংসতামুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ দেখার প্রত্যয়ে তার সকল কার্যক্রম তিনি অব্যাহত রাখারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ইয়ূথ লিডার পুষ্পা খাতুন।