গৌরীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়মের করনে ৯ দিনে বিদ্যুৎ স্পর্শে ৩ জনের মুত্যু

ময়নমসিংহ সংবাদদাতাঃ: ময়মনসিংহের গৌরীপুর আবাসকি প্রকৌশলী বিদ্যুৎ বিভাগের অসাদু কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে ঘুটি হিসাবে বাশ, কাঁচা গাছ আর খোলা তারের মাধ্যমে সেচ, আবাসীক ও বানিজ্যিক সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য ৯ দিনে বিদ্যুৎ স্পর্শে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের অচিন্তপুর বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলো দূরে কাছিমপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি বাশের খুঁটি ও খোলা তার দিয়ে সেচের সংযোগ নেয়। সেচ মওসুম শেষে হলেও ওই ব্যক্তি গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, একাউন্টেন আবুল মুনসুছ ও মাস্টার রোলে কর্মরত স্থানীয় লিটন মিয়া (বিল সাপ্লায়ারের) সহযোগীতায় মাসোহরার বিনিময়ে আশপাশের ২/৩ গ্রামের বিদ্যুতের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ১০ জুলাই সকালে ওই এলাকার মৃত শামছুদ্দিন ড্রাইভারের ছেলে তরুণ প্রতিভাবান ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম (৩০) তার নিজ বাঁশ ঝাড়ে বাঁশ কাটতে যায়। তখন বাঁশ ঝাড়ের ভেতর দিয়ে সর্বরাহকৃত সংযোগের খোলা তার বাশে পেঁচিয়ে থাকে ওই বাশে স্পর্শ করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ১২ জুলাই (রবিবার) সকালে পৌর শহরের কলাবাগানের মোজাম্মেলের বাসায় কাজ করার সময় চাল মিস্তী ওই এলাকার মৃত নিরঞ্জন চন্দ্রের ছেলে ২ সন্তানের জনক সুনীল বিদ্যুৎ স্পর্শে মারা যায়। অপর দিকে ১৯ জুলাই (রবিবার) ভোরে বোকাইনগর ইউনিয়নের পাঠান তোলা গ্রামের ছাবেদ আলীর ছেলে ১ সন্তানের জনক উজ্জ্বল (৩৫) হাসের জন্য শামুক কুড়াতে যায়। ঐ এলাকার ফজলুল মেম্বার বাশের খুঁটি ও খোলা তারে সেচ ও হাউজ লাইন নেয়। ওই সংযোগের তার এতই নিজ দিয়ে যায় তার বুকে স্পর্শে করে এবং সে ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে এলাকাবাসী তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ৩টি মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে বাশের খুঁটি আর খোলা তারে সংযোগের কারনে। এলাকাবাসী বলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অসাদু কর্মকর্তা সহকারী আবাসীক প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেন, একাউন্টেন আবুল মনসুরসহ আরো কয়েক জনের সহযোগীতায় অতিরিক্ত অর্থের বিনিময় এই এলাকায় প্রায় ৪০টির মতো অবৈধ সংযোগ দিয়ে মৃত্যু কোপে পরিনিত করেছে। এ সংযোগ গুলো বিচ্ছিন্ন না করলে আরো অনেক তাজা প্রাণ ঝড়বে, আরো মায়ের বুক খালি হবে।
এ ব্যাপারে সহকারী আবাসীক প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন সেচ সংযোগ গুলো আবেদনের প্রেক্ষিতে বানিজ্যিক করা হয়েছে। খোলা তারে বিদ্যুৎ স্পর্শে মানুষ মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন বিদ্যুৎ বিভাগ টাকা পাচ্ছে। আর তাতে ৫০ জন মারা গেলেও পিডিবির কিছু আসে যায় না।