কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার ভাঁঙ্গনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম,

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।।গ্রামের একটা মাত্র প্রাইমারি স্কুল আছিল তাও নদীত গ্যালো। মোর ছাওয়াটা এল্যা কোটে পড়ালেখা পড়বে’- কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া গ্রামের শামসুল হক। একইভাবে খিতাবখাঁ বড়দরগা গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এই নিয়্যা তিনবার বসতবাড়ি নদী নিয়ে গেলো, এল্যা বেটাবেটি নিয়ে কোটে থাকিম, কোটে বাড়ি তুলিম,চিন্তা করি কুলবার পাংনা’। স্থানীয় সরিষাবাড়ি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান,এক মাসের মধ্যে গতিয়াশাম, নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজাতেই তিন শতাধিক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিস্তা নদীভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও। এ ছাড়াও বিলীন হয়েছে তিনটি মসজিদসহ পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, গাছপালা ও শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙ্গনে ওই তিনটি মৌজার অধিকাংশই মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। জানা গেছে, পানি কমে যাওয়ায় রাজারহাটের তিস্তা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম, নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজার তিন শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে অনেক পরিবার। এদিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ, চর-খিতাবখাঁ, গতিয়াশাম, সরিষাবাড়ি ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, তৈয়বখাঁ, চতুরা, কালিরহাট, চরবিদ্যানন্দসহ ১০ গ্রামে দফায় দফায় ভাঙনে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া সহস্রাধিক বসতভিটাসহ তৈয়বখাঁ বাজার, কালিরহাট বাজার, বুড়িরহাট বাজার, সরিষাবাড়ি বাজার, তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিরহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি ইউনিয়নের আরও তিনটি মসজিদ, দুটি মন্দির, স্থাপনাসহ শত শত একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত চারটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে গতিয়াশাম, নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।

সর্বশেষ সংবাদ