কুড়িগ্রামের কচাকাটায় ড্রেজার মেশিনে ‘আগুন দিয়ে’ এসআই অবরুদ্ধ

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।।কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নে জমি থেকে বালু তোলার কাজে ব্যবহৃত শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার মেশিনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে কচাকাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল উদ্দিন গ্রামবাসী কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতায় মুক্ত হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট)  কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি মণ্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান এবং ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য নূর মোহাম্মদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নাগেশ্বরী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজা ও কচাকাটা থানার ওসি মাহবুব আলম।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে ভিটে হারানো স্থানীয় বাসিন্দা সালাম ব্যাপারীর নতুন করে বাড়ি করার জন্য আফসার নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর মেশিন দিয়ে ওই এলাকার মাহাবুর মণ্ডলের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে কচাকাটা থানা পুলিশের এসআই শাহজালাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে তা অপসারণের নির্দেশ দেন। এতে ঘটনাস্থলে থাকা ড্রেজার ব্যবসায়ীর প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে এসআই শাহজালাল উদ্দিনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এসআই শাহজালাল ড্রেজার মেশিনের পাশে থাকা ডিজেলের জেরিকেন থেকে সমস্ত ডিজেল মেশিনের ওপর ঢেলে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং মেশিনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এসআই শাহজালাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বারু মণ্ডল বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে আমি কচাকাটা গিয়েছিলাম। আমার বাড়ির পাশে ড্রেজার মেশিনটি ছিল। হঠাৎ মেশিনে আগুন ধরা দেখে স্থানীয়রা ভেবেছিলেন আমার বাড়িতেই আগুন লেগেছে। আমার স্ত্রী ফোনে আমাকে আগুনের ঘটনা জানালে আমি দ্রুত বাড়ি ফিরে এসে দেখি বাড়ির পাশের মসজিদের সামনে এসআই শাহজালাল উদ্দিনকে ঘিরে স্থানীয়রা জটলা করে আছে। তখন আমি তাকে নিয়ে গিয়ে এগিয়ে দিয়ে আসি। পরে কিছুদূর যাওয়ার পর থানার অন্য পুলিশদের আসতে দেখে তাকে (এসআই শাহজালালকে) তাদের কাছে রেখে আসি।’
স্ত্রী লতা বেগমের বরাত দিয়ে বারু মণ্ডল বলেন, ‘আমার স্ত্রীসহ গ্রামের অনেকে ড্রেজার মেশিনে আগুন জ্বলতে দেখেছে।’
কেদার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য নূর মোহাম্মদ জানান, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই পুলিশ সদস্য চলে গেছেন। পরে বিকালে সার্কেল এএসপি ও কচাকাটা থানার ওসিসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেন। স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছেন, এসআই শাহজালাল উদ্দিন ড্রেজার মেশিনে ডিজেল ঢেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেন।’
চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ‘ড্রেজার মেশিন সরানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য মেশিনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন বলে ফোনে আমাকে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ রাখলেও পরে তাকে যেতে দেওয়া হয়।’
অভিযুক্ত এসআই শাহজালাল উদ্দিন বলেন, ‘দুই গ্রামবাসীর অভিযোগে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করতে যাই। সেখানে আগুন দেওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে গ্রামবাসী আমাকে আট-দশ মিনিট একরকম অবরুদ্ধ করে রাখলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
ঘটনা তদন্তে ঘটনাস্থলে থাকা কচাকাটা থানার ওসি বলেন, ‘ড্রেজার মেশিনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। তবে কে আগুন দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কেউ বলছেন (এসআই শাহজালালকে) ডিজেল ঢেলে দিতে দেখেছেন, আগুন দিতে দেখেননি, কেউ বলছেন আগুন দিতে দেখেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’
নাগেশ্বরী সার্কেলের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজা বলেন, ‘ড্রেজার অপসারণ নিয়ে ড্রেজার মালিকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যের বাগবিতণ্ডার কথা শুনেছি। মেশিনে আগুন দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।’