খুশির জোয়ারে ভাসছে কুড়িগ্রামের নদী পাড়ের মানুষসহ জেলাবাসী

সাইফুর রহমান শামীম,,কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমোর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প একনেক বৈঠকে পাশ হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে নদীর দুই পাড়ের মানুষসহ জেলাবাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চলছে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে তিন উপজেলায় নদী অববাহিকার হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, ফসলী জমিসহ সরকারী-বেসরকারী নানা স্থাপনা। কুড়িগ্রাম পানি উনয়ন বোর্ড সুত্র জানায়, জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ধলডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতর দিয়ে ৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ব্রহ্মপুত্র নদ মিলিত হয়েছে দুধকুমোর। খরস্রোতা এই নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিবছর দুই পাড়ের হাজার হাজার বসত-বাড়ি, আবাদী জমি ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এই নদীর স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে কোন প্রকল্প দেয়া হয়নি। তবে গত ১০ আগষ্ট ৬শ ৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দুধকুমোর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এদিকে একনক বৈঠকে এই প্রকল্প পাশের খবর ছড়িয়ৈ পড়ায় স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন ভাঙ্গনের মুখে পড়া মানুষজন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি করছেন মিষ্টি বিতরণও। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুধকুমোর পাড়ের বাসিন্দা খয়বর আলী জানান, এই দুধকুমোর নদীতে আমার দুই বার বাড়ি ভাঙ্গছে। আবাদী জমি নদীতে পড়ে আছে। বর্তমানে যে বাড়ি করেছি সেটাও নদীর কিনার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এই নদীর কাজ হবে। নদী আর ভাঙ্গবে না এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলহাজ্জ মইনুল ইসলাম লাল জানান, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে দুধকুমোর নদীর ভাঙ্গন রোধে কোন কাজ করা হয়নি। এবারই প্রথম দুধকুমোর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ৬শ ৯২ কাটি ৬৮ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই নদীর দুই পাড়ের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় আমরা নদী পাড়ের মানুষরা আনন্দ মিছিল করছি। মিষ্টি বিতরণ করছি। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মন্জু জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামের মানুষকে অত্যন্ত ভালাবাসেন বলেই একনেক বৈঠকে দুধকুমোর নদীর ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। আমরা জেলাবাসীর পক্ষ থেকে, জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। আমরা যখন যা চেয়েছি তিনি তাই দিয়েছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, এই ৬৫ কিলোমিটার দুধকুমোর নদীতে ভাঙ্গন রোধ এর আগে তেমন কোন প্রকল্প ছিল না। এটি আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পানি আসে এবং হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, স্থাপনা, ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই প্রকল্পের আওতায় ১৫টি স্থানে প্রায় ২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় কাজ করা হবে। এর ফলে দুইটি উপজেলা শহর নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী এবং গুরুত্বপুর্ণ সোনাহাট স্থল বন্দর, হাট-বাজার, বিভিন স্থাপনা, বসতী ও কৃষি জমি রক্ষা হবে। কুড়িগ্রামে এ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন রোধে যত প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বঙ্গসোনাহাট স্থল বন্দর সহ তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ উপক্রিত হবে। পাশাপাশি বদলে যাবে এসব এলাকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র।

সর্বশেষ সংবাদ