শাজাহানপুরে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

গতকাল সোমবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একেএম আছাদুর রহমান দুলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার খোকা নামের ছেলেটি ইতিহাসের রাখালরাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। জীবনের পরতে পরতে বেড়ে উঠা এ শিশুটি ৩য় শ্রেণীতে পড়াবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ ছোট বেলা হতে মানুষের মন কেড়ে নিয়েছিল। এ শিশুটি বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের মহানায়কসহ অসংখ্য উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর এগিয়ে যাবার পিছনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন বাবা-মা ও তাঁর স্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমির বিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন সারথি।
তাঁর চেতনা অবিনশ্বর ও বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন। মুজিবাদর্শে শাণিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি মর্যাদাবান ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।
১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকান্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন। এ দিনে মানবতার শক্র প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতি মুক্তি আন্দোলনের মহা নায়ক বিশ্বের লাঞ্চিত-বঞ্চিত-নিপিড়িত মানুষের মহান নেতা বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ বাঙালির নিরন্তন প্রেরনার চিরন্তন উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি সর্ককালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহপরিবারে হত্যা করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সব অনুভূতি, ত্যাগ, সংগ্রাম, বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, অদম্য স্পৃহা, দৃঢ় প্রত্যয়, বাঙালি জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলাভ, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’-এর নিরঙ্কুশ বিজয়সহ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেন স্বপন, শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু দিলীপ কুমার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেব, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক মাস্টার।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মোস্তাকুল ইসলাম বিজয়, খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজীউল হক গাজী, সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন দুদু, সুজাবাদ উত্তরপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি সৈয়দ ফারুক হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল আলম শাওন, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মিজু প্রমুখ।
সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যান কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্বারী মো. নজরুল ইসলাম।