আমার দেখা বিশিষ্ট চিন্তক,গবেষক,শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট প্রফেসরএবনে গোলাম সামাদ স্যার 

মোঃ হায়দার আলী।। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ মারা গেছেন। রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপকের মৃত্যুতে সর্বত্র নেমে এসেছে শোকের ছায়া।  ড. এবনে গোলাম সামাদের নামাজের  জানাজা আজ বাদ আসর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দাফন করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থানে।
স্যারকে খুব কাছ থেকে আমি দেখেছি,  তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন,  আমি দৈনিক ইনকিলাবের গোদাগাড়ী উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে  কর্মরত ছিলাম, এখনও আছি, তখন ফ্যাস্কে, কুরিয়ার, পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে লিখে নিউজ পাঠাতে হত।  সে জন্য স্যার প্রায় দৈনিক ইনকিলাবের রাজশাহী অফিসে আসতেন। ব্যুরো প্রধান রেজাউল করিম রাজু ভাই, রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কোরবান, অফিস সহকারী লাবলু ভাই, অফিস সহায়ক এসলাম সবাই অফিসে থাকতেন।  ঘন্টার পর ঘন্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হতো। যখনি আমি অফিসে যেতাম  স্যারকে সালাম দিতাম স্যার সালামের সুন্দর করে উত্তর দিতেন। আমাকে স্যার বলতে হায়দার তোমার গোদাগাড়ী এলাকা তো হেরোইন, ফেনসিডিল, আর ভারতীয গরু মহিষে  একাকার হয়ে যাচ্ছে। গরু মহিষ আমাদের উপকারে আসছে, করিডোর বাইপাশ করলে সরকারের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে শক্তহাতে কলম ধরতে হবে কোন ভাবে ছাড় দেয়া যাবে তবে কিছু কিছু অসৎ পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে থাকবে তাদের কে ছাড় দেয়া যাবে না।
আমার স্যারের পরামার্শে অনুপ্রানিত হযে সাংবাদিকাতা বেশ মনোযোগি হয়েছিলাম। মাদকব্যবসায়ী, থানার দালাল, রাজনৈতিক নেতা,  প্রশাসনের অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর লেখালেখি করেছি। এ লেখার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আমাকে হুমর্কি,  হুলিয়া, মামলা করেছিল। কিন্তু তাদের ওই সব মিথ্যা মামলা কোন কাজে আসে নি।  সব সময়   প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ স্যার  ও রেজাউল করিম রাজু ভাই আমাকে ভাল পরামার্শ দিয়েছেন।  কোন নিউজ কিভাবে লিখতে হয় সেটাও বলে দিতেন। এ দুজন গুনি ব্যক্তির জন্য আমার সাংবাদিক জগতে বেশী বিচরন করেছি। যা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি। দৈনিক নিয়াদিগন্ত পত্রিকা বের হওয়ার পর স্যার দৈনিক ইনকিলাবে কলাম লেখা বাদ দেন এবং দৈনিক নিয়াদিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন।
আমি ও রাজু ভাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় কলাম লেখার জন্য মাজে মাঝে উনাকে কলাম লেখার জন্য অনুরোধ করতাম কিন্তু তিনি লিখতেন না। কারণটা আজও জানা হয়নি। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন সাহেবের উপস্থিতিতে যত বারেই প্রতিনিধি সম্মেলন হয়েছে তত বারই স্যারের সাথে সকল জেলা সংবাদদাতা, উপজেলা সংবাদাতাদের সাথে দেখা হয়েছে, সালাম বিনিময় হয়েছে। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন মহোদয়ও  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদকে স্যার বলে সম্বোধন করতেন। স্যারকে আমি কোনদিন ভুলতে পারবো। আমি তার লেখার মুগ্ধ পাঠক ছিলাম। তবে যে সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় নানাভাবে বিভক্ত সেই সময়ে প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ স্যারকে খাঁটি দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী নিঃসংকোচে বলা যায়। বিভেদায়িত সমাজ তাঁকে ও তাঁর মনীষাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে, সম্মান দেখাতে অসমর্থ হয়েছে সেটা এই সমাজের ব্যর্থতা। তাঁর সাথে বাংলাদেশ জ্ঞানচর্চার যে বাতিঘরকে হারালো, তা আর কখনো পূরণ হবে না। তার বিদায়ে প্রিয়জন হারানোর বেদনা অনুভব করছি হৃদয়ে। মহান আল্লাহর কাছে তার মাগফেরাত ও জান্নাত কামনা করছি, আমিন।
তিনি রাজশাহীতে ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণকারী প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক। উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক হলেও বিভিন্ন বিষয়ে বহুমাত্রিক লেখার জন্য তিনি পরিচিত।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
এক মাস আগে শারীরিক অসুস্থতায় তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মাঝখানে তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হলেও পরে করোনামুক্ত হন।
তার স্ত্রী, চার ছেলে ও দু’মেয়ে রয়েছে। প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েক দিন থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের কাছে দাবি করা হলেও তার কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এবনে গোলাম সামাদ বিরল প্রতিভার একজন অনন্য লেখক ও কলামিস্ট ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। বিজ্ঞান তিনি শিখেছেন ও শিখিয়েছেন পদ্ধতিগতভাবে। তার একটি বৈজ্ঞানিক মানস ও স্বকীয় চিন্তারীতি গড়ে উঠেছে। এই বিষয়ে তার সমৃদ্ধ ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
তিনি লিখেছেন, আমি ছিলাম, ঐ যাকে সাধারণভাবে বলে অভিজ্ঞতাবাদী (Empiricist)। সবকিছু যুক্তি দিয়ে প্রমাণিত হয় না। কেউ যদি বলে, রাজশাহীর বাজারে ১৪০ রকম আম বিক্রি হয়, তবে তার কথাটা সত্য কি না, সেটা জানবার জন্য যেতে হবে রাজশাহীর বাজারে। বিশুদ্ধ যুক্তি দিয়ে এটার সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করা যাবে না। এখান থেকে স্পষ্ট যে তিনি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণমূলক অভিজ্ঞতাকে সবচাইতে গুরুত্ব দিতেন। আর এখানেই নিহিত রয়েছে তার নৈর্ব্যক্তিক, নির্মোহ, বস্তনিষ্ঠ এবং ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক মানসের উৎস।
তার আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যা তার লেখার পরতে পরতে দৃশ্যমান ছিল। সেটি হলো এদেশের গণমাধ্যমে ও বুদ্ধিবৃত্তির বলয়ে বহুল প্রচলিত যেসব ভাষ্য ও বয়ান পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ব করছে তিনি সেগুলোকে তার নিজস্ব পড়াশুনা, জ্ঞান ও বিচার-বিশ্লেষণ দিয়ে যাচাই বাছাই করে নেন। তিনি এমন কোন দল বা পক্ষ অবলম্বন করেননি, যেখানে তথ্য ও সত্যের চাইতে রঙ মাখানো প্রচার-প্রপাগাণ্ডাই মুখ্য। এ কারণে তাকে এদেশে বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত মোটা দাগের বোকা বোকা বয়ানগুলো পুনরুৎপাদন করতে দেখা যায়নি। বরঞ্চ তিনি নিঃস্বার্থভাবে ও নির্মোহভাবে তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রতিটি বিষয়কে দেখতে, বুঝতে ও বোঝাতে চেয়েছেন।
বিএফইউজে-ডিইউজের শোকঃ
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, কলামিস্ট, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবি প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এবং ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম এক যুক্ত শোক বার্তায় বলেন, এবনে গোলাম সামাদ বিরল প্রতিভাবান লেখক ও কলামিস্ট ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য শিক্ষক ও অভিভাবককে হারাল।
শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এবনে গোলাম সামাদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম।
রোববার দুপুরে জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক ড. মো: আজিজুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এছাড়া অধ্যাপক সামাদের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো: জাকারিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ হায়দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিক তোসলিম উদ্দিন লিখেছেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট, দার্শনিক, গবেষক, সমাজ চিন্তক, ইসলামিক ও দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী, বর্ষিয়ান শিক্ষাবিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তিনি ছিলেন  একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে জাতির জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হয়েও তিনি সাহিত্য, শিল্প, রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ের ওপর বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন এবং জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। তার লেখনি দেশপ্রেমিক তরুণ ও যুব সমাজকে আলোড়িত ও দেশ গড়ার কাজে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আজীবন সত্য প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন। মহান রব তার শূন্যতা পূরণ করে দিন। তার গুনাহখাতাগুলো মেহেরবানি করে মিটিয়ে দিন। পরের মঞ্জিলগুলো তার জন্য শান্তি, রহমত, মাগফিরাত ও বারাকার চাদরে ঢেকে দিন। তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস ও দারাজাহ দান করুন। তার শোকাহত স্বজনদের এবং সহকর্মীদেরকে আল্লাহ সবর দান করুন। এবনে গোলাম সামাদের ইন্তেকালে জাতি একজন প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী, বরেণ্য শিক্ষক ও অভিভাবককে হারাল। তার শূন্যস্থান অপূরণীয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে মরহুমের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী ও আত্মীয়স্বজনকে ধৈর্য ধরার শক্তি দান করুণ আমিন। অধ্যাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বহুমাত্রিক লেখনির জন্য খ্যাতি অর্জনকারী এই গুনী মানুষের প্রস্থানে সামাজিক মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।
শোক প্রকাশ করে, রাজশাহী সিনিয়র সাংবাদিক ডা. নাজিব ওয়াদুদ লিখেছেন, বাংলাদেশের কন্ঠস্বর এবনে গোলাম সামাদ স্যার রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর মহান রবের ডাকে এ নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করলেন। [ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন]
আল্লাহ স্যারের কাজগুলোকে কবূল করে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাক্বম দান করুন। এত কাছে যেয়েও আপনার সাথে শেষ দেখাটা করতে পারলাম না, এ কষ্ট আমি যতদিন বেঁচে থাকবো-বয়ে বেড়াতে হবে। সর্বশেষ রাজশাহী সফরের অন্যতম এজেন্ডা ছিল এটা, বন্ধুবর ও সাংবাদিক নেতা ড. মোহাম্মদ সাদিক কে বলেছিলামও কিন্তু করোনা প্যান্ডেমিকের কারণে তা আর সম্ভব হলো না। জ্ঞানের জগতের একজন মহীরুহকে আমরা হারালাম। জানি না, এ সন্তানের কতটুকু কদর এ জাতি করতে পারলো বা ভবিষ্যতে করতে পারবে। স্যার যা দেয়ার উজাড় করে দিয়ে গেলেন, আমরা নিতে প্রস্তুত তো বা নেয়ার মতো যোগ্যতা কি আমাদের আছে?
পি এম সফিকুল ইসলাম লিখেছেন এক মহৎ প্রাণের জীবনাবসান।বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহপাক স্যারকে বেহেস্তবাসী করুন।আমিন।
মাহাবু উল ইসলাম লিখেছেন, সত্যিকারের একজন কিংবদন্তী জ্ঞানতাপস, প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ও দেশের প্রধান বুদ্ধিজীবি প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ চলে গেলেন তার রবের ডাকে। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
হে আরশের মালিক, দয়াময় মেহেরবান, আপনি দয়া করে তার জীবনের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমীন।
মিরনাল হাসান  লিখেছেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।  বাংলাদেশের এরিস্টটল, সবই জানতেন তিনি। জ্ঞানের সাধক ছিলেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন
আমিনুল লিখেছেন,
বাংলাদেশীদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মহৎ ও জ্ঞানী বুদ্ধিবৃত্তিক অভিভাবক ও একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক চলে গেলেন, এ শূন্যতা কোন কিছু দিয়েই পুরুন হবার নয়। ইয়া আল্লাহ্ তার কবর কে প্রশস্ত ও আলোকিত করে দিও, শেষ বিচারে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করিও।
শোক প্রকাশ করে সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেন, ‘প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ স্যারকে বিশেষায়িত করার মত যথেষ্ট ভাষা জ্ঞান আমার আছে কিনা সন্দেহ। ইনকিলাবের সূত্রে স্যারের সাথে ও স্যারের লেখালেখির সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল। আমি তার লেখার মুগ্ধ পাঠক ছিলাম। তবে যে সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় নানাভাবে বিভক্ত সেই সময়ে প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদকে খাঁটি দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী নিঃসংকোচে বলা যায়। বিভেদায়িত সমাজ তাঁকে ও তাঁর মনীষাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে, সম্মান দেখাতে অসমর্থ হয়েছে সেটা এই সমাজের ব্যর্থতা। তাঁর সাথে বাংলাদেশ জ্ঞানচর্চার যে বাতিঘরকে হারালো, তা আর কখনো পূরণ হবে কিনা সন্দেহ। তার বিদায়ে প্রিয়জন হারানোর বেদনা অনুভব করছি হৃদয়ে। মহান আল্লাহর কাছে তার মাগফেরাত ও জান্নাত কামনা করছি।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লিখেন, ‘আমরা শোকাহত। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট, ও শিক্ষাবিদ, প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ তার ইহকালীন জীবনের পর্ব শেষ করে আজ সকাল সাড়ে দশটার দিকে পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশ করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ছিলেন সমকালীন সময়ের এক চলন্ত ডিকশনারি। তার সাথে এবং তার লেখার সাথে যারা পরিচিত তারা অবশ্যই এ সত্যকে নির্দ্বিধায় মেনে নিবেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভির ভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তার পরকালীন জিন্দেগীকে শান্তিময় করে দেন, এবং তার শোকাহত স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন। আমিন।’
স্মৃতিচারণ করে আলফাজ আনাম লিখেন, ‘যার টানে রাজশাহী যেতাম তিনি আজ চলে গেলেন। বিদায় এবনে গোলাম সামাদ। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন। আর কখনো বলবেন না, আপনারা যা ভাবেন তা তো আমি নই। আমি এক সাধারন মানুষ। আমি তো টাকার জন্য লিখি না। মনে যা আসে লিখি।’
আবু বকর সিদ্দিক লিখেন, ‘বাংলাদেশের যে মানুষ টি সবচেয়ে নীরবে সাহিত্য চর্চায় নিমগ্ন ছিলেন তিনি হলেন অধ্যাপক এবনে গোলাম সামাদ। উনার সাহিত্য কর্ম শিক্ষকতা দেশে বিদেশে গবেষণা সবকিছু মিলিয়ে একটা সাফল্যমন্ডিত জীবন তিনি পার করেছেন। তাও তিনি রয়ে গেছেন অতি আড়ালে। লোকচক্ষুর সম্মুখে তাকে তেমন দেখা যেতো না। এক জীবনে বিশাল বিশাল গুরু দায়িত্ব তিনি পার করে গেছেন। শেষ বয়সে নিজ শহর রাজশাহীতে কাটিয়ে দিয়েছেন অজস্র দিবারাত্রি। আজ সকালে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আল্লাহ তার এই বান্দাকে জান্নাতবাসী করুন। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এর পরে এই লোকটি ছিলেন সবচেয়ে নিভৃতচারী একজন জ্ঞানী বুদ্ধিজীবী। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক।’
দোয়া প্রার্থনা করে এমডি রবিউল হোসেন লিখেন, ‘বড় অসময়ে চলে গেলেন! বিশিষ্ট্য চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবি,কলামিস্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ (৯৩) ১৫ আগস্ট রোববার সকাল সাড়ে দশটায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) উনার লেখার মাধ্যমে অনেক বিষয় জানার সুযোগ পেতাম। এখন আর সেই সুযোগ পাবো না। উনার সকল কর্মতৎপরতাকে আল্লাহ কবুল করুন। মহান রবের দরবারে ফরিয়াদ করি যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।’