জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন ইসলামি চিন্তাবিদ, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক

লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ ব্যস্ত সময় পার করছিলাম, মানষিকভাবেও ভাল ছিলাম না কারণ  রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার  মহিশালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের , ক্লাস ফাইভ  এ পড়া আমার ছোট ছেলে আজিজ আরিফিন জীমের হাটাৎ করে  অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ায় তার  অপারেশন  চাঁপাই নবাবগজ্ঞের  সেবা ক্লিনিকে করা হয়েছে। অপারেশন  করেছেন ডাক্তার ময়েজ উদ্দিন, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল ওটা বাস্ট হয়ে গেছে চিন্তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়, মন ও শরীর দুটো খারাপ হচ্ছিল। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে জীম বাবু  এখন কিছুটা সুস্থ্যের দিকে, তার মায়ের অবস্থা ভাল নয় কিছুদিন থেকে জটিল রেগে ভুগছেন তার চিকিৎসাও চলছে। এসব নানা চিন্তা  যেন ঘুরপাক খাচ্ছিল, এ অবস্থায় টেলিভিশন,  স্থানীয়,  জাতীয়, অন লাইন  পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা যায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেছেন। (  ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন।
এই আলেমে দীন সম্পর্কে কিছু লেখার চেষ্টা করচ্ছি মাত্র। জানি না পাঠক সমাজ কতটা উপকৃত হবেন।
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবুল হাসান ও মাতা ফাতেমা খাতুন।
জুনায়েদ বাবুনগরী ৫ বছর বয়সে তিনি আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে ভর্তি হন। এখানে তিনি মক্তব, হেফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। কুরআনের হেফজ শেষ করার পর আজহারুল ইসলাম ধর্মপুরীর কাছে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ শুনিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভর্তি হন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায়। ১৯৭৬ সালে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তারপর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তান যান। ১৯৭৬ সালে করাচিতে অবস্থিত জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ায় তাখাচ্ছুছাত ফিল উলুমুল হাদিস তথা উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগে ভর্তি হন। ২ বছর হাদিস নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে তিনি আরবি ভাষায় ‘সীরাতুল ইমামিদ দারিমী ওয়াত তারিখ বি শায়খিহী’ (ইমাম দারিমী ও তার শিক্ষকগণের জীবন বৃত্তান্ত) শীর্ষক অভিসন্দর্ভ জমা দেন। এই অভিসন্দর্ভ জমা দেওয়ার পর তিনি জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করেন।
পাকিস্তানে শিক্ষা গ্রহণ শেষে ১৯৭৮ সালে তিনি দেশে ফিরে বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা করেন। বাংলাদেশের মাদরাসা সমূহের সর্বপ্রথম বাবুনগর মাদরাসায় তিনি উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ চালু করেন। ২০০৩ সালে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন। ২০২০ সালের ১৭ জুন মাদরাসা কমিটি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়। তার স্থলে মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদীস এবং শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের প্রধান সম্পাদক, মাসিক দাওয়াতুল হকের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ৫ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক। ছেলের নাম মুহাম্মদ সালমান। পরিবারের সবাই ইসলামি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
গত বছর হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফী মারা যাওয়ার পর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর সম্মেলনে বাবুনগরীকে আমির করে হেফাজতের ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরে চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল নানা কারণে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে পাঁচজনের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এই কমিটির নেতৃত্বেও ছিলেন বাবুনগরী। এ কমিটি গত ৭ জুন ৩৩ জনে উন্নীত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জুনায়েদ বাবুনগরী ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। আজ বেলা ১১টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ আরও অবনতি হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মনে করতেন, বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ মুসলমানদের দেশ তাই ইসলাম অবমাননাকারীদের এদেশে থাকার অধিকার নেই। হেফাজতে ইসলামের মুখপাত্রের দায়িত্বপালনকালে বাবুনগরী বলেন, এদেশে নাস্তিক-মুরতাদরা থাকবে নয়তো হেফাজত থাকবে।
এছাড়াও তিনি ইসলাম বিরোধীদের দেশ থেকে বিতাড়ণের জন্য বিভিন্ন সময় কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন।
তিনি বিশ্বখ্যাত আলেমদের অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসির, ফিকাহশাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামে আল্‌-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম এর প্রধান মুহাদ্দিসের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের খ্যাতনামা ইসলামী বক্তা ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব  মুহাম্মদ জুনায়েদ জনসাধারণের মাঝে জুনায়েদ বাবুনগরী নামেই অধিক সমাদৃত ছিলেন। বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামী পণ্ডিত হওয়ার পাশাপাশি একধারে তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও প্রখ্যাত গবেষক।
এছাড়া  তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নূরানী তালীমুল কোরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের প্রধান সম্পাদক ছিলেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুতাওয়াল্লী, মাসিক দাওয়াতুল হকের পৃষ্ঠপোষক, ইনসাফ২৪.কম ও কওমিভিশন.কমের প্রধান উপদেষ্টাসহ কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় পদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনুসারীরা তাকে ‘মজলুম জননেতা’, ‘কায়েদে মিল্লাত’, ‘আপোষহীন সিপাহসালার’ ইত্যাদি উপাধিতে ডেকে থাকেন। তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব ইউসুফ বিন্নুরীর শিষ্য। মুসলিম নেতা হিসেবে দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের হেফাজত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণও করেছিলেন।
১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া প্রখ্যাত এই ইসলামী বক্তার বাবা ছিলেন আবুল হাসান। তার মায়ের নাম ফাতেমা খাতুন। এ ছাড়া হারুন বাবুনগরী সম্পর্কে তার নানা। মায়ের দিক থেকে তার বংশধারা ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের সাথে মিলিত হয়।
 এদিকে  ২০২০ সালের ১৭ জুন মাদরাসা কমিটি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়। তার স্থলে মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার অনুসারীদের দাবি অনুযায়ী, ‘তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে থাকায় সরকারি চাপে তাকে সরানো হয়েছে।’
পরবর্তীকালে ১৪ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে ১৭ সেপ্টেম্বর মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে মাদরাসার দায়িত্ব মজলিসে শুরাকে দিয়ে দেন। ওই দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীকালে বাবুনগরীসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। তিনি মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও শিক্ষা সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
২০১০ সালে তাকে মহাসচিব করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির আমির মৃত্যুবরণের পর ১৫ নভেম্বর সংগঠনের একটি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে আমির নির্বাচিত হন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
২০১৯ সালের মে মাসে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘শিক্ষকতা জীবনে এ পর্যন্ত (২০১৯) আমার ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি।’
শিক্ষাজীবন শেষে আধ্যাত্মিক দীক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে তিনি আব্দুল কাদের রায়পুরীর উত্তরসূরী আব্দুল আজিজ রায়পুরীর নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন। রমজান মাসে তিনি রায়পুরীর খানকায় অবস্থান করে কিছুকাল তার সান্নিধ্যে ছিলেন।
তিনি আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) এর ছাত্র ও খলিফা ছিলেন। প্রথমে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও পরে আমির হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে কারাবরণ করেন এবং বহু মামলার শিকার হন।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন আলেম হিসাবে তার সুখ্যাতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত জীবনে পড়াশোনা ও অধ্যবসায়ে মগ্ন থাকতেন। আরবী ফার্সি ও উর্দু ভাষার কবি ছিলেন। তার কাব্য নাম ছিল জুনায়েদ শওক। তিনি নানা বিষয়ে ৩০টির মতো বই পুস্তক রচনা করেছেন। হাদীসহ অন্যান্য শাস্ত্রে সারাদেশে তার অসংখ্য ছাত্র রয়েছে। তিনি সদালাপী ও বন্ধুবৎসল মানুষ ছিলেন। বড় বড় সংকটে ধৈর্য ও দৃঢ়তা ধরে রাখতেন।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে হাটহাজারী মাদরাসাসহ অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খান কামালসহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদীস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেছেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সেক্রেটারী আলহাজ আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুল ইসলাম, জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।
এক শোক বার্তায় পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমদের মধ্যে একজন। তার ইন্তেকালে দেশের ঈমানদার জনগণ একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় অভিভাবক হারালেন। তিনি হাজার হাজার আলেম গড়ে তুলেছেন। আল্লামা জুনাইদ দ্বীনের বহুমুখি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে ইলমে নববীর আলো বিতরণ করে গেছেন। যার অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। পীর সাহেব চরমোনাই মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবদেনা জ্ঞাপন করেন। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরে জামিল এখতিয়ারের তৌফিক দিন। আমীন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর ইন্তেকালে দেশের জনগণ একজন খ্যাতিমান ধর্মীয় অভিভাবককে হারালেন। আল্লামা বাবুনগরী ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমদের মধ্যে একজন। মরহুমের ইন্তেকালে জাতি একজন সুদক্ষ হাদীস বিশারদ,বিজ্ঞ হক্কানী আলেমেদ্বীন ও ইসলামের সাহসী পথপ্রদর্শককে হারালো। আল্লামা জুনাইদ দ্বীনের বহুমুখি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে ইলমে নববীর আলো বিতরণ করে গেছেন। যার অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। গতকাল বৃহস্পতিবার আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর ইন্তেকালে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
 বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন : হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী ও কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী সাঈদুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এক শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর ইন্তেকালে জাতি একজন সুদক্ষ হাদীস বিশারদ,বিজ্ঞ হক্কানী আলেমেদ্বীন ও ইসলামের সাহসী পথপ্রদর্শক কে হারালো। গত  বৃহস্পতিবার বাদ যোহর মরহুমের রূহে ইছালে সাওয়াবের জন্য খতমে কোরআন শেষে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল দারুল উলুম মাঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পাশেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে তাকে সমাহিত করা হয়।
জানাজা শেষে বাবুনগরীর মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ির বাবুনগর গ্রামে দাফনের কথা ছিল। তবে জানা যায়, তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী দুই জায়গাতেই করব খোঁড়া হয়। বাবুনগরী তার জীবদ্দশায় নানা হারুন বাবুনগরীর পাশে তাকে কবর দেওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন বলে দাবি গ্রামবাসীর। সে অনু্যায়ী তার জন্য সেখানে কবর খোঁড়া হয়। হাটহাজারী মাদরাসায় জানাজার পর তার মরদেহ সেখানে নেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান ছাত্র চাচ্ছিলেন, দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল এই মাদরাসার পাশেই সমাহিত করা হবে তাকে। পরে একাধিক বৈঠকের পর মাদরাসার পাশেই তার ১২টার দিকে বাবুনগরীকে দাফন করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৭ মিনিটে হাটহাজারীর ডাক বাংলোর সামনে জুনায়েদ বাবুনগরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মামা ও হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

সর্বশেষ সংবাদ