বগুড়া থিয়েটারের চক্ষুদান নাটকের মঞ্চায়ন

স্টাফ রিপোর্টার:গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশে হঠাৎ ধেয়ে এলো অন্ধকার। কোভিড ১৯ নামক এক অদৃশ্য অনুজীব প্রতিদিনের রুটিনজীবনকে মারাত্মক ব্যবচ্ছেদ করে মানুষকে গৃহাভ্যন্তরে বন্দী করে ফেললো। নিভে গেলো মঞ্চের আলো। এই একাকিত্ব, শিল্পসাহচার্য বিহীন সন্ধ্যারাত যেনো আর ফুরোয় না।স্মরণকালের দূর কিংবা নিকট অতীতে কখনই এত দীর্ঘসময় বন্ধ থাকেনি করতোয়া বিধৌত বগুড়ার মিলনায়তনগুলি। গতকাল শুক্রবার বগুড়ায় দীর্ঘ এই সৃজন বন্ধ্যাত্ব কাটছে বগুড়া থিয়েটারের চক্ষুদান নাটকের মঞ্চায়নের মাধ্যমে। মঞ্চে ফিরবার জন্য ব্যাকুল নাট্যকর্মীদের যেনো প্রাণে প্রাণ ফিরে এলো, সংস্কৃতিকর্মীরা পেলো নতুন ভাবে জেগে উঠবার দিশা। আবার মুখর হবে সংস্কৃতি অঙ্গন, বাউলের একতারায় জাগবে সুর, নাটকের সংলাপে মানুষ পাবে লড়াইয়ের সাহস, নুপূরের নিক্কনে ছন্দপতনের ছেঁড়া তারে যুক্ত হবে নতুন ছন্দ।গৌতম রায়ের চক্ষুদান একটি তির্যক দৃষ্টিভঙ্গির নাটক। নির্দেশনা দিয়েছেন তৌফিক হাসান ময়না। এই নাটকে নাট্যকার হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের কপটতাকে তুলে এনেছেন। এ পৃথিবীর সব মানুষ এক রকম নয়। কেউ কেউ জীবনটাকে খুব সাদাসিধে ভাবে যাপন করতে চায়, সরল ভাবে চালিত করতে চায় কিন্তু তার সরলতার সুজোগ নিয়ে স্বার্থপরেরা ভিড় জমাতে থাকে। এই স্বার্থের কাছে প্রেম, ভালবাসা, বন্ধুত্ব, ভাতৃত্ব সবই ফিকে হয়ে যায়। বলি হয় জীবন। চক্ষুদান নাটকে শ্যামল এমনি এক সাদাসিধে চরিত্রের মানুষ। জীবনে যার তেমন কিছু চাইবার নেই কিন্তু সেই মানুষটিই হয়ে ওঠে তার প্রেমিকা, ভাই, বন্ধু সকলের পাশার দান। পুঁতিগন্ধময় স্বার্থপরতা থেকে মৃত্যুই যাকে মুক্তি দেয়।নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহাদাৎ হোসেন, গাজী আশা, কনক কুমার পাল (অলক), সুপিন বর্মন, বিধান কৃষ্ণ রায়। আবহ নির্মাণে কাজ করেছেন সোবহানি বাপ্পী, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সর্দার হামিদ, রবিউল, হাসান।নির্দেশক তৌফিক হাসান ময়না জানান, চক্ষুদান নাটকটি আমরা এই করোনার সময়ে বেছে নেবার কারণ এই নাটকে নাট্যকার গৌতম রায় মানুষের কদর্য স্বার্থপরতার গল্প তুলে এনেছেন। এই করোনার মহামারীতেও আমরা নানাভাবে স্বার্থান্ধ মানুষকে দেখেছি, যারা মানুষের কান্না দেখেও চোখবুজে ছিলেন। চক্ষুদান নাটকের মঞ্চায়নে আমরা সকল স্বার্থপর মানুষের বিবেকের চোখ খুলে দিতে চাই। চক্ষুদান নাটকের প্রতিটি চরিত্রই যেনো আমাদের চারপাশের চরিত্র। এই নাটক নিশ্চিত করেই সমাজের কিংবা ব্যক্তি জীবনের এক গভীর ক্ষতকেই চিহ্নিত করেছে। ক্ষতমুক্ত হোক জীবন। স্বার্থনিমগ্নতায় নিমজ্জিত না থেকে মানুষ উদারতায় একে অপরকে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করুক। চক্ষুদান নাটকের মঞ্চায়নে এই আমাদের প্রত্যাশা।