বাগেরহাটে পাউবো’র বেড়ি বাঁধে ধ্বসে আতঙ্ক

বাগেরহাট সংবাদাতা ঃ সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত বাগেরহাটের শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের তাফালবাড়ি লঞ্চ ঘাট এলাকার বেড়ি বাঁধের একটি অংশ ধ্বসে পড়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে জরুরি ব্যবস্থা না নেয়া হলে, যেকোনো মুহূর্তে বেড়ি বাঁধের ঝুঁকি পূর্ণ বাকি অংশ ভেঙে সাউথখালী ও রায়েন্দা দুই ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ কারণে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, রোববার রাতে জোয়ারের পানির চাপে ওই এলাকার প্রায় ৫শ’ মিটার বেড়ি বাঁধ ধ্বসে পড়ে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে, যেকোনো মুহূর্তে বাকি অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই এলাকার মানুষের মাঝে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে ভেড়ি বাঁধ সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ও চাল রায়েন্দা গ্রামের আঃ হালিম শেখ, আঃ সবুর আকন,মহিদুল ইসলাম, আঃ হক ,লিটন, দুলাল, জাকির ঘরামি, আনোয়ার ও রুবেল হাওলাদারসহ ২০টি পরিবার গত ২দিনের ব্যবধানে ঘর বাড়ি ফেলে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। বেড়ি বাঁধ সংলগ্ন চাল রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা আ. জলিল হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন, ইউসুফ মৃধাসহ অনেকে বলেন, ‘সিডরের পর বাঁধ মেরামতের কাজ দেইখ্যা অনেক খুশি অইছিলাম। কিন্তু কাজ শ্যাষ ওইতে না ওইতেই যেভাবে ভাঙ্গন শুরু ওইছে, হ্যাতে (তাতে) রাইতের ঘুম হারাম ওইয়া গ্যাছে। কোনো সময় যানি বাঁধ সম্পূর্ণ ভাইঙ্গা মোগো সব কিছু সিডরের মতো ভাসাইয়া লইয়া যায়। মোগো তো আর কোনোহানে (কোথাও) যাওয়ার জায়গা নাই’।
অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই একের পর এক বাঁধ ধ্বসে পড়ায় চাল রায়েন্দা গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বাসিন্দাদের। বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে বলেশ্বর নদীর প্রবল ¯্রােতে বাঁধ সংলগ্ন তাফালবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি, সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদ, তাফালবাড়ি বাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শত শত বসতবাড়ি, ফসলি জমি, পাকা সড়ক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া বাঁধের আরো ৪-৫টি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, তেড়াবেকা, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, রায়েন্দা ইউনিয়নের ঝিলবুনিয়া, রাজেশ্বর, লাকুড়তলাসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন জানান, জরুরি ভাবে ব্যবস্থা না নিলে, যেকোনো মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে তাফালবাড়ি বাজারসহ ওই এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, বিগত ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বরের সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে বলেশ্বর নদীর কোল ঘেষে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়ি বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গত অর্থ বছরে ওই বাঁধ সংস্কার ও ব্লক স্থাপনে বিশ্ব ব্যাংক ৩২ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস এসএস/এসি জয়েন্টভেঞ্চার ওই বাঁধ সংস্কার কাজ ২ মাস আগে শেষ করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এ বাঁধ একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হতে শুর করেছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌলশী মো. মাঈনউদ্দিন সংস্কার কাজে অনিয়ম ও একের পর এক বেড়ি বাঁধ নদীতে ধবসে পড়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।