যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

ভোলার নাছির মাঝি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে সন্ত্রাসী হামলায় খোরশেদ আলম টিটু নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আবদুল খালেকসহ আরও তিনজন। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৫ টায় মেঘনার মধ্যবর্তী মদরপুর চর থেকে খেয়া নৌকায় ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা গুলি করে তাকে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে। মদনপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নুর সঙ্গে মিলাদ ও কর্মী ভোজ শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টিটু সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে আহতদের নাম তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের চাচাত ভাই জিসান জানান, গত ১১ নভেম্বর মদনপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন নান্নু ডাক্তার বিজয়ী হয়। নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের দাওয়াত খেতে তার নেতাকর্মীসহ লোকজন শুক্রবার মদনপুর চরে যায়। দাওয়াত খেয়ে বিকেলে ট্রলারযোগে নাসির উদ্দিন নান্নু ডাক্তার ও তার কর্মীদের নিয়ে এবং যাত্রীসহ প্রায় ২৫জন মদনপুর থেকে নাসির মাঝি ঘাটের উদ্দেশ্যে ফিরছিল। এসময় পিছন থেকে একটি স্পীডবোট এসে ট্রলারে লাগিয়ে দেয়। ভাসমান ট্রলারের চাপায় স্পীডবোট ডুবে গেলে সেখান থেকে অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটু। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। পরাজিত প্রার্থী জামাল উদ্দিন সকেট গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন টিটুর স্বজনরা অপরদিকে টিটুর মৃত্যুর খবরে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সমবেত হয়। আসেন টিটুর ২ শিশু সন্তান, মা, ভাই, স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন। হাসপাতাল থেকে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। এদিকে হামলা ও নিহতের ঘটনার জন্য নাছির উদ্দিন নান্নু নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী জামাল উদ্দিন সকেটকে দায়ী করেন। পুলিশ হামলার কাজে ব্যবহৃত একটি স্পীডবোট আটক করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন।