ট্রাকের সব রড বিক্রি করে দিলেন চালক-হেল্পার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ উত্তরবঙ্গের মহাসড়কগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইের ঘটনা নতুন নয়। অসাধু চক্র পণ্যবোঝাই ট্রাক নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে তুলে দিচ্ছে চোরাই সিন্ডিকেটের কাছে। দালালরা যোগাযোগ করে ক্রেতার সঙ্গে। ক্রেতা যোগাযোগ করে চালকের সঙ্গে। দাম ঠিক হলে বিক্রি করে দেয়া হয় ট্রাক ভর্তি পণ্য। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রডভর্তি এই ট্রাকটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে সুনামগঞ্জে নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চালক ও তার সহযোগীর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রাকটি সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে চলে যায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের কাছে। প্রায় ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় ১৩ টন রড। চোরাই এই সিন্ডিকেটের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ টন রড। পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রাকে কিংবা কাভার্ড ভ্যানে পণ্য লোড করার পর তা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে বিক্রি করে দিতো চক্রটি। চোরাই পণ্য বিক্রির জন্য সারা দেশেই রয়েছে তাদের দালাল। ডিবি’র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, যে ড্রাইভার এবং হেলপারের মাধ্যমে মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব দেয়, তারাই মূলত বিশ্বামঘাতকতা করে। এক্ষেত্রে তারা রুট পরিবর্তন করে দালালের মাধ্যমে ক্রেতা খুঁজে তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কোম্পানির মালিকদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নিজের গাড়ির মাধ্যমে অথবা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কাছ থেকে ট্র্যাক ভাড়া নিয়ে পণ্য পরিবহন করলে অবশ্যই ড্রাইভারের বিষয়ে ভেরিফিকেশন করে নিবেন। হরহামেশাই চুরি হচ্ছে রপ্তানির জন্য বন্দরে পাঠানো তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে আমদানি করা বিভিন্ন শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ভোগ্যপণ্য, রড ও সিমেন্ট। মহাসড়কে পণ্য পরিবহন নিয়ে মহাআতঙ্কে ব্যবসায়ীরা।