বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধুকে একাধিকবার ধর্ষণ! আদালতে মামলা দায়ের

রায়হান কবির রবিনঃ জেলা প্রতিনিধি, বগুড়াঃ বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মামলা সূত্রে ও ভুক্তভোগী এবং তার পরিবার সূত্রে জানা যায় বগুড়া সদরের ৬নং শাখারিয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নুর আলম (৪০) এর স্ত্রী মোছাঃ কহিনুর বেগম (৩৫) দীর্ঘদিন যাবত একই এলাকার বাসিন্দা নজিবর রহমানের পুত্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সদ্য নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়া মোঃ এনামুল হক রুমির বাড়িতে ঝি এর কাজ সহ গরু বাছুর দেখাশোনা করতো। ধর্ষিতার ভাষ্য অনুযায়ী গত ১৭/১০/২০২০ইং তারিখে প্রতিদিনের ন্যায় রুমির বাসায় ঝি এর কাজ করতে যায় কহিনুর, এসময় রুমি তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতিতে বাড়ী ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে কহিনুরকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে নানান ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রুমি বলেন, এই কথা কেউ জানলে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের সমস্যা হবে। পরবর্তীতে এনামুল হক রুমি কহিনুরকে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০ অক্টোবর ২১ইং এনামুল হক রুমি ধর্ষিতার স্বামীর বাসায় তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে কহিনুরকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে কহিনুর ধর্ষক রুমিকে তার সাথে বিবাহের কথা বললে রুমি কহিনুরকে বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানান। কোন উপায় না পেয়ে ধর্ষিতা কহিনুর বেগম আইনের আশ্রয় নেন। পরিশেষে কহিনুর তার স্বামী নুর আলমকে নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর ২১ইং মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে বগুড়া সদর থানায় যান, ঘটনাটি বিলম্ব হওয়ার কারনে সদর থানা থেকে কর্তব্যরত অফিসার জেলা কোর্টে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। অদ্য ২৪ অক্টোবর ২১ইং তারিখেই ধর্ষিতা কহিনুর জেলা বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-১ এ একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৩০১, পি/২০২১। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯ (১) ধারায় মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল হয়। কহিনুর বেগম গনমাধ্যমকে আরো জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই ধর্ষক রুমি ও তার দলবল নিয়ে কহিনুর ও তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদেরকে প্রকাশ্যে ও মুঠো ফোনে নানান ধরনের হুমকি ধামকি সহ প্রাননাশের হুমকি এবং এলাকা থেকে বিতাড়িত করার হুমকি ধামকি প্রদান করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ মামলার অভিযুক্ত রুমি ২৯ নভেম্বর তার দলবল নিয়ে কহিনুরের স্বামীর বাড়ীতে যান এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য কহিনুর ও তার স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বলেন মামলাটি তুলে না নিলে বাড়ী ও গ্রাম ছাড়া করবে। কহিনুর আরো বলেন, আমি ও আমার পরিবার বিগত কয়েকদিন যাবত রুমি ও তার দলবলের আতংকে বাড়ী ছাড়া এবং প্রাননাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কহিনুর আরো বলেন, বিগত ১৭ অক্টোবর ২০ ইং থেকে ২০ অক্টোবর ২১ইং পর্যন্ত মামলার আসামী রুমি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এনামুল হক রুমির সাথে গনমাধ্যমের যোগাযোগ হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও আদালতে দায়েরকৃত মামলা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এছাড়াও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রুমি বলেন, আমি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কারনে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে সমাজের কাছে হেওপতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রুমি আরো বলেন, সকল অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে আমি আদালতে নির্দোষ প্রমানিত হবো। ধর্ষিতা কহিনুর ২০০০ইং সালে নুর আলমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তিনি তিনটি কন্যা সন্তানের জননী। দায়েরকৃত মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে চলমান।