রাজবাড়ীতে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৩

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুরে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে আটকে রেখে চাঁদাবাজির সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার মোবারকদিয়া গ্রামের আ. হাকিম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কালুখালী উপজেলার সুর্যদিয়া গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে ইমরান হোসেন সবুজ (৩০), বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম খুশি (৪০) ও কুরশী গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে মো. রমজান আলি। তিনি বলেন, আমাদের আত্মীয় কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমানকে যাওয়ার জন্য রিয়াজ মাহমুদ তার মোটরসাইকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা স্ট্যান্ডে রোববার রাত আড়াইটার দিকে পৌঁছে একটি দোকানের সামনে দাঁড়ানো মাত্র ইমরান হোসেন সবুজ, রবিউল ইসলাম খুশি, রমজান আলী এসে তার পরিচয় জানতে চায়। মাহমুদ সরল বিশ্বাসে তার পরিচয় জানালে। সবুজ নিজেকে কালুখালী থানার এসআই হিসেবে পরিচয় দেয়। অপর দুই সহযোগীসহ রিয়াজ মাহমুদকে মোটরসাইকেল নিয়ে সোনাপুর বাজারে আসে। সোনাপুর গ্রামের খুশির বাড়িতে আটকে রাখে। রিয়াজকে মারধর করে তার মায়ের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তার মা গরিব মানুষ বলে অনুরোধ করলেও রিয়াজকে মারধর করে কান্নাকাটি শব্দ শোনানো হয় মোবাইলে। রোববার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে তার মায়ের ফোনে ফোন করে রিয়াজকে মারধরের কান্নাকাটির শব্দ শোনানো হয়। পরে রিয়াজের মা ১০ হাজার টাকা ফোনে পাঠালে ওই টাকা রামদিয়া বাজার থেকে উত্তোলন করেন চাঁদাবাজরা। বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে রিয়াজকে উদ্ধার করা সহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিম রিয়াজকে উদ্ধার করাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সোমবার রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিয়াজ বর্তমানে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।