শিবগঞ্জে নৌকা পেয়েও পরাজয়ের আশঙ্কায় ভোট করবেন না রাজা

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাবার পরও নির্বাচন থেকে পিছু হঁটেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। পরাজয়ের আশঙ্কায় তিনি নিজের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। তবে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি এই ইউপির নির্বাচন। ৭ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নৌকা ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে অসম্মান করার জন্য তাকে (রাজা চৌধুরি) দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী জানান, আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি। আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন হবে। এর চেয়ে ভালো অন্য কেউ নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করুক। আমি তার পক্ষে কাজ করব।
অভিযোগের ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় ভাই আওলাদ চৌধুরী জানান, আমি কয়েক যুগ থেকে নির্বাচন করছি। কে ভোট করবে আর করবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত। আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার। আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা জানান, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত ক্রমে যাচাই করে আমরা তিন জনের নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলাম। তারা হলেন- মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে নৌকার মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন পাবার তিন দিন পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি।
শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, নৌকাক পাবার পর ভোট না করার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীককে অবমাননার সামিল। এজন্য আমরা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, আমরা জেলা থেকে কেন্দ্রের কাছে কয়েকজনের নাম দিয়েছিলাম। কেন্দ্র এখন সিদ্ধান্ত দেবে মোকামতলা থেকে নৌকা প্রতীকে কে ভোট করবেন। তবে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।