মুরাদকে জামালপুরে ঢুকতে দেবে না বিএনপি

জামালপুরে বিতর্কিত সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে জামালপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে জেলা বিএনপি। মুরাদ হাসান জামালপুরে প্রবেশ করলে তাকে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতারা। জামালপুর শহরের স্টেশন বাজার রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় এক পথ সভায় মুরাদ হাসানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পথ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, লিয়াকত আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব খান, শহর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ মাসুদ প্রমুখ। বিএনপির নেতারা পথ সভায় বক্তব্যে বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জায়মা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যদানকারী মুরাদ হাসানকে জামালপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে জামালপুরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। মুরাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আলোচনায় ছিলেন এ প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুরাদ হাসান। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়েও আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই মুরাদ হাসানের পদত্যাগের দাবি আরও জোরাল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে রোববার মধ্যরাতে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে মুরাদ হাসানের আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁস হয়। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। ভাইরাল হওয়া সেই অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেন চিত্রনায়ক ইমন। ইমন বলেন, ‘যা শুনেছেন তাই। এটি আসলে বছরখানেক আগের ঘটনা। একটি সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানের আগের রাতে প্রতিমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। বাকিটা তো আপনারা শুনেছেনই।’ মুরাদ হাসান পেশায় চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে প্রথমে মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য থেকে তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।