রাতে হোটেলে ঢুকে শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণ, এসআই গ্রেফতার

আবাসিক হোটেলে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ওই নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে ওই হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট জেলার মোংলা থেকে শিশু কন্যা ও এক ভাগ্নেকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন ওই নারী। তবে সিরিয়াল না পাওয়ায় রাতে থাকার জন্য সুন্দরবন আবাসিক হোটেলে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী থাকেন। আর ভাগ্নে আরেক রুমে থাকেন। রাত সোয়া ২টার দিকে হোটেল বয়কে নিয়ে পুলিশ পরিচয়ে রুমে প্রবেশ করে মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই নারীর সাথে থাকা মেয়েটি কার জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। তিনি নিজের মেয়ে পরিচয় দিলে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস করতে চায়নি। এরপর হুমকি-ধামকি দিয়ে হোটেল বয়কে রুম থেকে তাড়িয়ে দেয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারী ও তার মেয়ের চিৎকারে হোটেল বয় ও অন্যরা এগিয়ে আসলে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পরে ভাগ্নে সব শুনে হোটেল মালিক মিশারুল ইসলাম মনিরকে বিষয়টি জানালে সে এসে হোটেলের মেইন গেট তালাবদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং আসামিকে আটক করে। খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাগেরহাটের মোংলা থেকে এক নারী তার মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন। রাতে থাকার জন্য নগরীর সুন্দরবন হোটেলের ৩১৩ নং রুম বুকিং করেন। মঙ্গলবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে ডিবির এসআই জাহাঙ্গীর আলম রুমে ঢুকে ধর্ষণ চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে ওই নারীর দায়ের করা মামলায় জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।