সুনামগঞ্জে ‘ভুয়া এনজিও’র ৩ কর্মী আটক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ভুয়া এনজিও সন্দেহে চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির তিন কর্মীকে পুলিশে দিয়েছে বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন। পুলিশের হাতে আটক চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ৩ এনজিও কর্মী হলেন- বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে এস এম মনিরুউজ্জামান, গাজীপুর জেলার গোদা উপজেলার দক্ষিণ খাইলকুর গ্রামের রমেশ চন্দ্রের ছেলে সুজন সিকদার ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা কাজলা হাঠি গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে মাসুদ মিয়া। চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের এনজিও ভুয়া সন্দেহ হলে মাঠকর্মী ও ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে রোববার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল ৫ টার সময় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামে তাদের অফিসে যায়। এনজিও কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয় ইউপি চেয়ারম্যান। খবর পেয়ে ওই তিন এনজিও কর্মকর্তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। জানা যায়, প্রধান কার্যালয় ঠুলঠুলিয়া, ডেমরা-ঢাকা ও গভঃ রেজিঃ নং-৬০৫৭(৩০১)/ ২০০৫ ইংরেজি এর চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি এনজিও ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের কয়েল মিয়া বাড়িতে অফিস ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এনজিও চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি প্রথম তাদের মাঠকর্মী নিয়োগের কথা বলে ৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে ২২ জনের কাছ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা করে নিয়োগ দিয়ে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদের নিয়োগ দেওয়া মাঠকর্মীদের দিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ, বাদাঘাট, মোল্লাপাড়া ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা, গুঠিলা, বারহালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক পরিবারের দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদেরকে বিনামূল্যে রেশন, ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে প্রথমে সদস্য ভর্তি ফরম বাবদ ৪১৪ জনের কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে ৫৩ হাজার ৮২০ টাকা এবং ২০ কেজি, ২ কেজি আটা ও ২ কেজি তেল দেওয়ার কথা বলে আরও ২৮ জনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে ২৮ হাজার টাকাসহ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। কিন্তু স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ টাকার পরিমাণ ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। পরে গত বেশ কয়েকদিন ধরে চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তাদের আচার আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হলে মাঠকর্মী ও ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনকে জানালে বিকেল ৫টার সময় চেয়ারম্যান ও তাহিরপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনতাসহ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে ওই তিন এনজিও কর্মকর্তাকে আটক করে পুলিশে হাতে তুলে দেন। এ ব্যাপারে বাদাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী আমাকে জানালে আমি প্রথমে ইউএনও ও ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি। পরে আজ পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তাদের আটক করে পুলিশে দেই। বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই জয়নাল আবেদীন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুয়া সন্দেহে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীরা তাদের আটক করে পুলিশে দেয়। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।