খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই-গয়েশ্বের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বের চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এক। তাকে বন্দী করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বন্দী করা হয়েছে। তাকে বন্দী করে গণতন্ত্রকে বন্দী করা হয়েছে। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, সেই ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অস্থিত্বকে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুধু আমাদেন নেত্রী নয় বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-সার্বেভৌমত্বে প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, আপসহীন ভূমিকার জন্য দেশের মানুষ তার মুক্তি চায়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বুধবার সকালে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টার আগেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে ফতেহ আলী বাজারের গেট হইতে কোর্ট পর্যন্ত রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা ‘স্বাধীনতার অপর নাম, জিয়াউর রহমান’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ স্লোগানে পুরো দলীয় কার্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। গয়েশ্বের বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা মামলায়। তাকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তাকে এই সাজা দেয়া হয়েছে। যেখানে লোয়ার কোর্ট থেকে দেয়া হয়েছিল ৫ বছর। হাইকোর্টে দেয়া হয়েছে ১০ বছর। এতেই বোঝা যায় কীভাবে রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে। কীভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই রাষ্ট্রকে এক দলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ কারণে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার জনগণের ওপর অত্যাচার করে বিদেশে দেশের সম্মান নষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে ক্ষমতাসীনরা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে যাদের কারণে সরকার সেই র‌্যাব কর্মকর্তাদের পক্ষে সাফাই গাইছে। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মানবাধিকারশূন্য হিসেবে চিহ্নিত। নির্বাচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ধ্বংস করছে, অর্থনীতিতে চলছে লুটপাট। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বের চন্দ্র রায় বলেন, ‘আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। যে আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটবে। যে আন্দোলনে খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। যে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি। বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া পৌরসভা মেয়র রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনার পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিষেশ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু , রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, ওবায়াদুর রহমান চন্দন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন চাঁন, লাভলী রহমান, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপদি গোলাম রবানী, নুসরত এলাহী রিজভী, বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বকুল, ডা: শাহ মোঃ শাহজাহান আলী, ডা: মামুনুর রশিদ মিঠু, আহসানুল তৈয়ব জাকির, এম আর ইসলাম স্বাধীন, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, তৌহিদুল আলম মামুন, কেএম খায়রুল বাশার, শেখ তাহা উদ্দিন নাইন, শহীদ উন নবী সালাম, এনামুল কাদির এনাম, মোরশেদ মিল্টন, মনিরুজ্জামান মনির, শাকিল, শহিদুল ইসলাম বাবলু, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, আব্দুল মুহিদ তালুকদার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, সাধারন সম্পাদক আব্দুল হামিদ মিটুল, বিএনপি নেতা সাজ্জাদুজ্জামান সিরাজ জয়, বগুড়া জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এ বি এম মাজেদুর রহমান জুয়েল, যুগ্ম আহবায়ক সরকার মকুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান, সাধারন সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক মযনুল হক বকুল, শহর যুবদলের আহ্বায়ক আহসান হাবিব মমি, সদস্য সচিব আদিল শাহরিয়ার গোর্কি, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ সুজন, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অতুল চন্দ্র দাসসহ নেতৃবৃন্দ। খবর বিজ্ঞপ্তির।