বগুড়ায় অনুষ্ঠিতব্য তাবলীগ ইজতেমার আজ ২য় দিন

শাফায়াত সজল, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় তাবলীগ জামায়াত এর ইজতেমার আজ ২য় দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফজর নামাজের পর মাওলানা শাহাদত হোসেন এর আমবয়ান এর মধ্য শুরু হয় তিন দিন ব্যাপী ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। ৫০ হাজার মুসল্লী ধারণ ক্ষমতা নিয়ে সাজানো প্যান্ডেল হলেও আজ জুম্মার নামাযে মুসল্লীদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ৭০ হাজারের উপর। জুম্মার নামাজে অংশ নিতে দুরদুরান্ত থেকে লোকজন আসতেও দেখা যায়।
পরে জুম্মার নামাজের সারি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কাছাকাছি চলে আসে। আজ জুম্মার নামাজে বয়ান করেন কাকরাইল মারকায মসজিদ থেকে আগত মাওলানা আব্দুল্লাহ সাহেব। বাদ জুম্মা বয়ান করেন আরব থেকে আগত এক মেহমান। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, আরব ও নাইজেরিয়া থেকেও ৩টি জামায়াত নিয়ে এসেছেন তাবলীগ জামায়াত এর বিদেশী সাথী মেহমানরা। তাদের জন্য করা হয়েছে আলাদা থাকার স্থান ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুরো ইজতেমা মাঠকে ২১টি খিত্তা (স্থানে) ভাগ করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে পুলিশের একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম । যেখান থেকে পুরো ইজতেমার উপরে সার্বক্ষনিক নজরদারী করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখার লোকজন। পুরো ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে সাদা পোশাকেও পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। ইজতেমায় আগত মুসুল্লীদের পানি সরবরাহের সুবিধার্তে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পানির ট্যাংক। পয়নিঃস্কাশনের জন্য অস্থায়ীভাবে তৈরী করা হয়েছে প্রায় ৫০০টি টয়লেট।
৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই ইজতেমা শেষ হবে ৮ই জানুয়ারি শনিবার আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে। মারকায মসজিদ সুত্রে জানা গেছে, আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে শনিবার সকাল ১০ টা থেকে ১১টার মধ্য। আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন ঢাকা কাকরাঈল মসজিদের আহলে শুরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। আয়োজকদের ধারণা এই আখেরী মুনাজাতে প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবে। আয়োজকেরা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত  আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামিকাল শনিবার সকালে আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার সকল আনুষ্ঠানিকতা।
ঝোপগাড়িস্থ তাবলীগ মারকায মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষক সাব্বির হোসেন জানান, “এইবার সবেমাত্র করোনা মহামারী শেষ হলো সেজন্য সঠিকভাবে  প্রচারণা না হওয়ায় ও সময় সল্পতার কারণে সব বারের চেয়ে এইবার আগত মুসুল্লিদের সংখ্যা অনেকাংশে কম। তবে আমরা যে এত কম সময়ে যে প্যান্ডেল সাজিয়েছি তাতে ৫০ হাজার মুসল্লী ধারণ সম্ভব। এছাড়াও বিদেশ থেকে আগত মেহমানদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের নিযুক্ত ভলেন্টিয়াররা কাজ করে যাচ্ছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক”।