কুড়িগ্রামের থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদে সন্ত্রাসী হামলা

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে দরজাসহ আসবাবপত্রের ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার কক্ষে ভাঙচুর চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে । উলিপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার বিপুল কুমার ইউনিয়ন পরিষদে হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ইউপি সচিবকে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শপথ গ্রহণের পর সম্প্রতি তার নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে একটি বৈঠক করেন। এ বৈঠকের ঘটনাটি সেনাবাহিনীতে কর্মরত স্থানীয় যুবক সালাউদ্দিন শাহীন বিকৃতভাবে “চেয়ারম্যান সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে মধ্য রাত পর্যন্ত বৈঠক করছেন” বলে তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীর ওই সদস্যকে উদ্দেশ্য করে উষ্মা প্রকাশ করেন। এরই জের ধরে রোববার দুপুর বেলা সেনাবাহিনীর ওই সদস্যের নেতৃত্বে কতিপয় ব্যক্তি সন্ত্রাসী কায়দায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এ সময় অবশ্য চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে সালাউদ্দিন তার দলবল নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে ডুকে দরজা,স্টিলের আলমারিসহ আসবাবপত্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এসময় ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতা সালাউদ্দিনকে আটক করে চেয়ারম্যানের কক্ষে রাখে। এ খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছালে তার পিতা মোখলেছার রহমান,ভাই নুরুন্নবী, বাবলুসহ বেশকিছু নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে এসে ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙ্গে সালাউদ্দিনকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর সালাউদ্দিনকে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়। অভিযুক্ত সালাউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই চেয়ারম্যানের সাথে তাদের পারিবারিক শত্রুতা আমি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে তার লোকজন আমাকে তুলে নিয়ে মারপিট করে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় মধ্যরাত পর্যন্ত বৈঠক করছি এমন একটি স্ট্যাটাস তার ফেসবুক আইডিতে দেয়। এ ব্যাপারে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া হলে আমি বিষয়টির প্রতিবাদ করি। একারণেই আমার পরিষদে আমার উপর হামলা করার জন্য গিয়েছিল এই সেনা সদস্য।