বগুড়ায় ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা স্ত্রীসহ গ্রেফতার

সঞ্জু রায়, বগুড়া: ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র ও বিদেশি মুঠোফোন নাম্বার ব্যবহার করেও শেষ রক্ষা হলোনা এক প্রতারক দম্পতির। ২৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর পলাতক থাকার পর ঢাকার ধানমন্ডি থেকে এই দম্পতি কে গ্রেফতার করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত দম্পতি হলেন, শহরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফা (৫১) ও তার স্ত্রী সুমাইয়া ফারজামা (৪১)।
প্রতারক গোলাম মোস্তফা একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। প্রতারণার ৯ টি মামলায় ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ২৭ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। এছাড়াও তার স্ত্রী সুমাইয়াকে প্রাতরণার মামলায় ২০১৯ সালে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তাদের গ্রেফতারি অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বগুড়া সদর থানার এস.আই জাকির আল আহসান জানায়, মোস্তফা ঢাকার আদাবরে বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এজন্য ২০০৮ সালে ব্যাংক থেকে তার চাকরি চলে যায়। একপর্যায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করেন।
এরপর তিনি ২০১৩ সালে বগুড়ায় ফিরে এসে সদর উপজেলার হাজেরাদিঘীতে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলেন। সেখানে স্থানীয়দের চাকুরি দেওয়া কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এই প্রতারক। সেখানে প্রতারণার সব পাঠ চুকিয়ে স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে তিনি ঢাকায় ফেরত যান। ঢাকাতে ২০১৫ সালে কথিত হজ্জ এজেন্সি গড়ে তোলেন। তার নিজ এলাকার ও তার স্ত্রীর বাপের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের মানুষদের হজ্জ্বে পাঠানোর কথা বলে সেখানেও লাখ লাখ টাকা তারা উভয়ে যোগসাজসে আআত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়।
এই তিন খাতে প্রাতারণায় মোস্তফার বিরুদ্ধে ১৮ টি মামলা দায়ের হয়। ২০১৭ সালে প্রথম একটি মামলায় তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর প্রতারক দম্পতি নিজেদের জাতীয় পরিচয় পত্র বদলিয়ে দুবাই পালিয়ে যায়। এরমাঝে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৯ মামলায় মোস্তফাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। পাশাপাশি ২০১৯ সালে তার স্ত্রীর সুমাইয়ার প্রতারণার একটি মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড হয়।
প্রতারক এই দম্পতি আবারও দেশে ফিরে এসে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস শুরু করে। পাশাপাশি নিজেদের মুঠোফোনে দুবাইয়ের নাম্বার ক্লোন করে ব্যবহার করতে থাকে। যাতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের শনাক্ত করতে না পারে।
তবে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ প্রতারক দম্পতিকে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সেলিম রেজা জানান, গ্রেফতার হওয়া দম্পতি অনেক অসহায় মানুষের সাথে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করেছে। তারা প্রতারণার জন্যে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করতো। জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিপিএম এর দিক-নির্দেশনায় তারা দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর এই প্রতারক দম্পতি কে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছেন। রবিবার দুপুরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে মর্মে জানান তিনি। এছাড়াও আদালতের ওয়ারেন্ট তামিলে তারা সর্বদাই নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বরাবরই কাজ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি সেলিম রেজা।