বগুড়ায় তাকবীর হত্যাকান্ড: আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতা তাকবির হত্যা মামলায় পারভেজ আল মামুন ওরফে মুক্তাদির (২১) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার সন্ধ্যা পৌণে ৬ টার দিকে শহরের পুরান বগুড়ার তাসিন ছাত্রাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মুক্তাদির শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের চাকলমা মুন্সিপাড়া গ্রামের ফজলে মাবুদ শাহিনের ছেলে। এসময় তার রুম থেকে একটি ট্রিগার ও ম্যাগাজিন সংযুক্ত সচল থ্রী নট থ্রী কাটা রাইফেল, দুইটি চাকু উদ্ধার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানায় ডিবি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস আই জুলহাজ উদ্দীন জানান, গত বছরের ১৮ মার্চ মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি আল আমিন হত্যার সাথে সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। সেই জবানবন্দীতে আল আমিন গ্রেফতারকৃত মুক্তাদিরের নাম প্রকাশ করে। তখন থেকেই মুক্তাদির পলাতক ছিল। পরে গত শনিবার শহরের পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও চাকুসহ মুক্তাদিরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে , ২০২১ সালের ১১ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আব্দুর রউফ ও তাকবীর ইসলাম। তারা সবাই মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে সেখানে তাকবিরের মোটরসাইকেলের সঙ্গে আব্দুর রউফের সমর্থক জাহিদ হাসানের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক সময় জাহিদের পক্ষ নিয়ে এগিয়ে আসেন আব্দুর রউফ। ওই সময় সভাপতি তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক অসীম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার মিমাংসা করে দেন। ওইদিন সন্ধ্যায় রউফ বাহিনী তাকবীর এবং তার সহযোগিদের ওপর হামলা করে এবং উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে।পরে ১৬ মার্চ বিকেল ৩ টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকবীর মারা যায়। মারা যাবার আগে তাকবীর তাকে ছুরিকাঘাত এবং হামলার জন্য আব্দুর রউফকে দায়ি করে একটি ভিডিওবার্তা দেয়।হত্যার ঘটনায় তাকবীরের মা শহরের মালতিনগর দক্ষিণপাড়ার জহুররুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী আফরোজা ইসলাম সদর থানায় সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো আসামি রেখে মামলা করেন। এছাড়া হত্যাকান্ডের একদিন পর ১৭ মার্চ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে সংগঠন থেকে বহিস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।এরপর তাকবীর নিহত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রউফ গত ২৫ মার্চ উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে ৬ সপ্তাহের জামিন দেন। তার জামিনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতের সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা পর্যায়ক্রমে বর্ধিত হয়। প্রায় ৪ মাস পলাতক থাকার পর ১৯ জুলাই বিকেলে রউফকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে রউফ কারাগারে রয়েছে। এছাড়া রউফকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রবিবার আদালত একদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন।