বগুড়ায় বাবা-মা হারানো আঁখি-আবির খুঁজে পেলো নিরাপদ আশ্রয়

সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার: ২০২০ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতায় মা এবং একই বছরের ২৩ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা কে হারায় নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ১৪ বছর বয়সী আঁখি খাতুন। ৫ মাসে দুই ধাক্কায় বাবা-মা কে হারিয়ে দেড় বছর বয়সী তার ছোট ভাইকে নিয়ে একদম অতল সাগরে পরে গিয়েছিল ৭ম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি।
মা-বাবা কে হারিয়ে এতিম এই ২ সন্তান কিভাবে যে দিন পার করছিলো তার করুণ বর্ণনা এই ২ শিশুর হয়তো দেয়ার ক্ষমতা নেই।
তবে আঁখির এই অসহায় জীবন-যাপনের খবর পেয়ে তার পাশে মানবিকভাবে দাঁড়িয়েছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আহেমদ ও বগুড়ার রোচাস রেস্টুরেন্টের পরিচালক নারী উদ্যোক্তা তাহমিনা পারভিন শ্যামলী। তাদের সহায়তায় আঁখি ও তার ছোট ভাই দেড় বছর বয়সী আবিরের দায়িত্ব নিয়েছে এস ও এস শিশু পল্লী (আন্তর্জাতিক বেসরকারি শিশুকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা)। আঁখি ও আবিরের লালন-পালনের দায়িত্ব এখন এই শিশু পল্লীর। যাতে অবশেষে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেলো তারা।
জানা যায়, আঁখি ও আবির বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মানিকদ্বিপা বিন্নাচাপড় গ্রামের আশরাফ মোল্লা ও সুফিয়া খাতুনের সন্তান।
এই শিশুদের পাশে মানবিকভাবে এগিয়ে আসা নারী উদ্যোক্তা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী জানান, ‘স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে আঁখির অসহায় জীবন সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। আঁখি খুব মেধাবী এবং সে পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু আর্থিক সংকটে তার পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার ছোটভাইয়ের দায়িত্বও তার ওপর। সবমিলে দিশেহারা হয়ে পরেছিল আঁখি।’ বিষয়টি জানার পর তিনি নিয়মিত সেই শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন মাত্র। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে তাদের এসওএস শিশু পল্লীতে ভর্তি করে দেয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব এখন এসওস শিশু পল্লী নিয়েছে।’ তবে তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে ভবিষ্যতে আরো কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তারা সর্বদা তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি।