গাবতলীতে নাজিম খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রিমনকে ৩দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রাশেদ ইসলাম নাজিম (২০) খুনের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত নাজিমের মা মোছাঃ রাশেদা বেগম (৫৫) বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে রিমন মোল্লা ওরফে ইমন (২৩)কে প্রধান করে ১৩জনের নাম উল্লেখসহ ৬/৭জনকে অজ্ঞাত বলে গাবতলী মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ মামলার রাতেই হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত রিমন ওরফে ইমন (২১)কে গ্রেফতার করে শুক্রবার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতারকৃত রিমন পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ডের সোন্দাবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোস্তা মোল্লার ছেলে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত ২২ফেব্রুয়ারী মামলার বাদী রাশেদা বেগমের প্রতিবেশী ভাতিজা অন্তর (১৭) এর সাথে তরফমেরু দক্ষিণপাড়া গ্রামের মুন্নু খন্দকারের ছেলে ইরাশ (১৬) এর সাথে গাবতলী পাইলট হাইস্কুল মাঠে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন অন্তর নাজিমকে মোবাইল করে পাইলট স্কুলে ডেকে নেয়। নাজিম পাইলট হাইস্কুল মাঠে এসে ইরাশকে ধমকা-ধমকি করে। ইরাশ তখন তার বড় ভাই ইভানকে সংবাদ দিলে ইভান পাইলট হাইস্কুল মাঠে এসে নাজিমকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইভান ও বড় ভাই ইমনসহ তাদের ১৫/২০ বন্ধু জোটবদ্ধ হয়ে একই উদ্দেশ্য সিদ্ধিÍকল্পে গত ২৩ফেব্রুয়ারী দাড়াইল বাজারের পূর্বে ক্ষেদ্রপেরী সড়কের খাজার ভাংরীর দোকানের সামনে ৬.৫০ মিনিটে একত্রিত হয়। সন্ধ্যারাত ৭টায় সময় বাদীর ছেলে নাজিম ক্ষেদ্রপেরী গ্রাম থেকে বাড়ী আসার সময় দাড়াইল বাজারের পূর্বে ক্ষেদ্রপেরী সড়কের খাজার ভাংরীর দোকানের সামনে পৌছা মাত্রই মামলায় উল্লেখিত আসামীগণ নাজিমের পথ রোধ করে। এরপর তরফমেরু দক্ষিনপাড়া গ্রামের ইয়াছিনের ছেলে রেজাউল হুকুম দেয় নাজিমকে শেষ করে’দে। হুকুম পাওয়া মাত্রই ইমনের হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নাজিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। এতে নাজিম গুরুত্বর রক্তাক্ত যখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। এসময় নাজিমের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চাকু মোচর দেয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অন্য আসামীরা নাজিমের শরীরে উপর্যপুরি লাঠি-সোটা লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে মারপিট করে রাস্তার উপর ফেলে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী নাজিমকে গুরুত্বর রক্তাক্ত যখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গাবতলী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থার অবনতি দেখে নাজিমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় নিহত নাজিমের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ফেব্রুয়ারি) রাতে ইমন (২৩)কে প্রধান করে ১৩জনের নাম উল্লেখ এবং ৬/৭জনকে অজ্ঞাত করে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা রাতেই গাবতলী মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের দিক-নির্দেশনায় বগুড়া ডিবি ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামিরুল ইসলাম, মামলার আই.ও এস.আই ইফতেখায়রুল, এসআই জাহাঙ্গীর, ফজলুসহ সঙ্গীয় ফোর্স ওইরাতেই গাবতলীর চকবোচাই এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত রিমনকে গ্রেফতার করে গতকাল শুক্রবার জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই ইফতেখারুল আসামী রিমনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত রিমনের ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ প্রসঙ্গে গাবতলী মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, নাজিম হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত রিমনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে পুলিশ সার্বক্ষনিক মাঠে রয়েছে।