বিকট বিস্ফোরণ ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কাঁপলো কিয়েভ

রাতভর অবিরাম বিস্ফোরণ ও মুহর্মুহু গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে তীব্র লড়াই চললেও রাজধানীতে শোনা গেছে বড়ো বড়ো বিস্ফোরণ। শনিবার সকালে আরও তীব্র হয়েছে সেই সংঘাত। কিয়েভের ময়দান চত্বরের কাছে শোনা গেছে বড়ো বিস্ফোরণের শব্দ। এছাড়া শহরের ট্রয়েশ্চিনা এলাকার কাছেও একাধিক বড়ো বিস্ফোরণ হয়েছে। খবর ফক্স নিউজের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরের অভ্যন্তরে কামানের গোলার শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেই শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, শহরের চিড়িয়াখানার কাছে ৫০টিরও বেশি বিস্ফোরণ এবং মেশিন গানের তীব্র গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। এদিকে ইউক্রেনের সেনা কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা করেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর ওই হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে শুক্রবার রাতে রাজধানী কিয়েভের পেরেমোহি (বিজয়) অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে শোনা গেছে জানালেও বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। অন্যদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেন এজেন্সি জানিয়েছে, রাশিয়ার সেনারা কিয়েভের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করেছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভজুড়ে কামানের গোলাবর্ষণের ব্যাপক শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। শহরের ঠিক কোথায় কোথায় গোলাবর্ষণ হচ্ছে সেটি এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে গোলাবর্ষণের এই শব্দ শহরটির কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরেই বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, আজ রাতটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। এই রাতে আমাদের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে সম্ভাব্য সব পন্থা ব্যবহার করবে শত্রপক্ষ। আজ রাতেই তারা হামলা করবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বহু শহরে রাশিয়ার হামলা হচ্ছে। কিয়েভেও হতে যাচ্ছে। (কিন্তু) আমরা রাজধানী হারাতে পারি না।