রাজশাহীর রিয়ার স্বপ্ন শেষ, হলো না ব্যারিস্টারি পড়া

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী  : রিয়া ফেরদৌসি (৩৩) অভাবী পরিবারে বড় হয়েছেন। বাবা আবু বক্কর এখনো খড় বিক্রি করে সংসার চালান। তার এক ভাই বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান চালান। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে রিয়া ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের পড়াশোনা শেষ হলে তাদের দুঃখের শেষ হবে। কিন্তু গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে তিনি খুন হন।
নিহত রিয়ার বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আবু বক্কর। রিয়া সংস্কৃতিমনা ছিলেন। এলাকায় থাকতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সচেতনতামূলক নাটকে অভিনয় করতেন। বিভিন্ন গ্রামে এর প্রদর্শনী হতো। তাই তাকে এলাকার সবাই চিনতো।
রিয়ার ভাই ফরমান আলী জানান, ঢাকার একটি কলেজ থেকে কয়েক বছর আগে তাঁর বোন স্নাতক (সম্মান) শেষ করেছেন। এরপর আইন বিষয়ে পড়তে আজারবাইজানের বাকু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় খণ্ডকালীন চাকরি নিয়েছিলেন। সেখানে তার পড়াশোনা প্রায় শেষের পথে। আরও আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি পিছিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সেখানকার লোকের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছেন, রেস্তোরাঁয় যাতায়াতের সময় স্থানীয় কিছু বখাটে তাঁকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় গত বুধবার সকালে রিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর ডান হাত ভাঙা, পা ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগেও রিয়া ফোন করে এমন শঙ্কার করাও জানিয়েছিল তার খালাতো বোনকে।
রিয়ার বাবা আবু বক্কর বলেন, ‘আমার কষ্টের সংসার। ছোট থেকেই মেয়েটার একটা স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। তাহলে আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকবে না। এখন তো সব শেষ হয়ে গেল। বিদেশে খুনি শনাক্ত করা আমার মতো গরিব মানুষের সম্ভব নয়। আমি আমার মেয়ের লাশটা চাই। এটাই আমার সরকারের কাছে আকুল আবেদন।’
পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু বলেন, রিয়া মেধাবী ও সাংস্কৃতি মনা ছিলেন। তাকে পুঠিয়ার সবাই চিনতো। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। আমার রিয়া খুনের বিচার চাই। এ জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মেয়েটির ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আজারবাইজানে আমাদের দূতাবাস নেই। ইরানের দূতাবাস আজারবাইজান দেখে। ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। মনে হচ্ছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। পুলিশের তদন্ত শেষে যত দ্রুত সম্ভব, আমরা লাশ নিয়ে আসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করব।’