বদলগাছীতে সয়াবিন পাইকারী ২১৫ খুচরা ২২০ টাকা কেজি বিক্রি,বোতলজাত উধাও

আবু সাইদ বদলগাছীঃ সয়াবিন তেলের দাম বেধেঁ দেওয়ার কয়েক দিন অতিবায়িত হলে ও নওগাঁর বদলগাছী বাজারে এর কোন ছোঁয়া লাগেনি। সরকারের বেধেঁ দেওয়া নিয়মনিতীকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে খোলা বাজারে এখন ও দেদারছে সয়াবিন তেল পাইকারী ২১৫ ও খুচরা ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই বলেই চলে।
গতকাল সকালে বদলগাছী বাজারে সরজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দুদিন আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার মনিটরিং করেছেন। ব্যবসায়ীদের সয়াবিন তেল ক্রয়ের মেমো দেখেছেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উপজেলা সদর হাটখোলা বাজার এর পশ্চিম পার্শে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডাস এর সত্বাধিকারী এখলাছুর রহমান জানান, তিনি বগুড়ার বসাক ট্রেডাস থেকে ৬ মে সয়াবিন তেল কিনেছেন বারেল প্রতি ৩৮ হাজার ৩ শত টাকা দরে। আর যানবাহন ভাড়া বাবদ আরও ২০০ শত টাকা, লেবার খরচ সহ তার পরেছে প্রতি কেজি ২০৫ টাকা। পাইকারী ও খুচরা বাজারে তিনি বিক্রি করছেন ২১৫ টাকা কেজি।
বাজারে অবস্থিত লিটন ভ্যারাইটি স্টোর এর সত্বাধিকারী আজিজুল হক এর ভাই লিটন জানান, তারা নওগাঁ মেসার্স সুমন এন্ড ব্রাদস থেকে সয়াবিন তেল ব্যারেল প্রতি কিনেছেন ৩৮ হাজার টাকা। আর বাজরে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছেন ২১০ টাকা কেজি দরে। তার পাশেই ফারুক ষ্টোর এর সত্বধিকারী ফিরোজ হোসেন জানান, তারা ও নওগাঁ মেসার্স সুমন এন্ড ব্রাদস থেকে সয়াবিন তেল ব্যারেল প্রতি কিনেছেন ৩৮ হাজার টাকা। তারা খুচরা ও পাইকারী ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। কিন্তু বদলগাছী বাজারে সয়াবিন তেলের সাধারণ ভোক্তারা বলছেন অন্য কথা। প্রকৃত পক্ষে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার জন্য তারা আর ও বেশি দরে বিক্রি করছে। আর বোতলজাত সোয়াবিন তেল তো বাজার থেকে একেবারে উধাও। বেশি দরে ও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে মজুদকৃত বোতলজাত সয়াবিন তেল থাকলে ও খোলা বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার জন্য বোতলজাত তেল গুলি খুলে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করেছে। এ জন্য বাজারে সয়াবিন তেল খোলা পাওয়া গেলে ও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ধনি থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তারা ও এখন খোলা সয়াবিন তেলের উপর নির্ভর হয়ে পরেছে। আর এ সুযোগে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল মিটারে তেল বিক্রয় করলেও মাপে কাটসাজি রয়েছে বলে কয়েক জন ক্রেতা জানিয়েছেন। তারা উচ্চ মুল্যে খোলা সয়াবিন কিনলে ও কেজি প্রতি প্রায় ২০ গ্রাম থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত তেল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতা সাধারণ পাইকারী ও খুচরা তেল ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে ক্রয় করে অন্য ডিজিটাল মিটারে ওজন করলে ওই পরিমান তেল কম হলে বিষয়টি ধরা পরছে। কিন্তু ক্রেতা সাধারণের যেন কিছুই করার নেই। কার যে বোতলে অন্যের ডিজিটাল মেশিনে ওজন করলে ২০/৫০ গ্রাম ওজন কম হলে ও পুনরায় ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে গেলে ওজন ঠিক আছে বলে জানানো হচ্ছে। ডিজিটাল দেশে ডিজিটাল চুরি হলে ও ভোক্তা বা ক্রেতা সাধারণ নিরুপায়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের খুচরা মুদি ব্যবসায়ীরা পাইকারী খোলা সয়াবিন ২১৫ টাকা কেজি দরে কিনে এনে তারা ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছে।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করছে, সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে যেন মগের মুল্লুক তৈরী হয়েছে। সকারের বেধেঁ দেওয়া নির্ধারিত দাম কে তোয়াক্কা করছেনা তেল ব্যবসায়ীরা। এক্ষুনি সরকারকে স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা বাজার মুনিটরিং জোরদার করে সয়াবিন তেল সহ অন্যান্য ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রন না করলে সাধারণ জনতা আর ও কঠিন বিপাকে পরবে। প্রবাদ রয়েছে , নুন আনতে পান্তা ফুরাই। এখন তেল আনতে তরকারীা ফুরাই অবস্থা। অবশেষে এমনি অবস্থা বর্তমানে বিরাজমান।

বদলগাছী সদর হাটখোলা বাজারের পশ্চিম পার্শে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডাস এর সত্বাধিকারী এখলাছুর রহমান, লিটন ভ্যারাইটি স্টোর এর লিটন ও ফারুক ভ্যারাইটি স্টোর এর সত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, তারা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিল মালিক রয়েছেন তারা দাম কমালেই কেবল তারা কম দামে বিক্রি করতে পারবে। সরকারকে মিল মালিক ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রন করলেই তেলে দাম স্বাভাবিক হবে এবং জন সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে বলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মনে করছে।