বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের হাতে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ জন পলাতক আসামী গ্রেফতার                                        

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-শিমুল হাসান আদমদিঘী( বগুড়া) প্রতিনিধি-বাদী মোঃ আব্দুল হাই সরকার বগুড়া সদর থানায় হাজির হইয়া লিখিত এজাহার দায়ের করেন যে, তার বড় ভাই মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার (৬৭) ইং-০৩/০৫/২০২২ তারিখ ঈদ-উল-ফিতর/২০২২ এর নামাজ শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার জন্য বাদীর পৈত্রিক গ্রামের বাড়ী মহিষবাথান সরকারপাড়া যান। উক্ত তারিখ কবর জিয়ারত শেষে বিকাল অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় বাদীর ভাই গ্রাম বাসিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাদীর ভাই বাদীর গ্রামের বাড়ী মহিষবাথান নতুনহাটে জনৈক মোঃ বাদল, পিতা-মৃত জামির উদ্দিন, সাং-মহিষবাথান (সরকারপাড়া) থানা ও জেলা-বগুড়া এর মুদি দোকানে বসিয়া মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ইং-০৪/০৫/২০২২ তারিখ রাত্রী অনুমান ১২.১৫ ঘটিকার সময় মামলার এজাহার নামীয় ১নং হইতে ৫ জন আসামীগন বাদীর ভাইয়ের কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে টাকা দাবী করে। বাদীর ভাইয়ের কাছে টাকা না থাকায় তিনি তাদেরকে পরবর্তীতে টাকা দিতে চাইলে আসামীগন বাদীর ভাইয়ের সাথে কথা কাটাকাটি করিয়া চলিয়া যায়। বাদীর ভাই মহিষবাথান নতুনহাটে ০২নং সাক্ষী মোঃ বাদল এর দোকানের সামনে অবস্থান কালে ইং-০৪/০৫/২০২২ তারিখ রাত্রী অনুমান ১২.৪৫ ঘটিকার সময় এজাহারনামীয় আসামী গনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন আসামী একই উদ্দেশ্যে মারাত্মক অস্ত্রসহ দেশীয় ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া, ক্রিচসহ বাদীর ভাইকে ঘিরিয়া ধরিয়া পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া ০১নং আসামীর হুকুমে সকল আসামীগন হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী কোপ দিতে থাকে। বাদীর ভাই আত্মরক্ষার্থে বাঁচাও বাঁচাও বলিয়া দৌড়াইতে দৌড়াইতে মহিষবাথান তিনরাস্তার মোড়ে পাকা রাস্তার উপর আসিয়া পড়িয়া যান। উক্ত সময় আসামীগন বাদীর ভাইয়ের পিছনে ধাওয়া করিয়া মহিষবাথান তিনরাস্তার মোড়ে পৌছাইলে বাদীর ভাই আত্মরক্ষার্থে তাহার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল বাহির করার চেষ্টা করিলে ০১নং আসামী রোপন এর হুকুমে ০৬নং আসামী ইমরান @ হিম্মত তাহার হাতে থাকা রামাদা দিয়া বাদীর ভাইকে তাহার ডান হাতের কব্জিতে কোপ মারিয়া কব্জি বিচ্ছিন্ন প্রায় গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম  করে। ০১নং আসামী বাদীর ভাইয়ের নিকট হইতে অসৎ উদ্দেশ্যে তাহার লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি কাড়িয়া নেয়। উক্ত সময় ০১নং আসামী তাহার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া বাদীর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিছন দিক হইতে পিঠে ও পায়ে কয়েকটি স্টেপ (আঘাত) করিয়া গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ০৪নং আসামী লিমন তাহার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া বাদীর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী ভাবে কোপ মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম করে এবং সকল আসামীগন তাহাদের হাতে থাকা ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, ক্রিচ ও হাসুয়া দিয়া বাদীর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী ভাবে কোপ দিয়া হাত ও পা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ২৫/৩০ টি স্থানে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত সময় ঘটনাস্থলের আশে পাশের লোকজনসহ সাক্ষীগনসহ আরো অনেকেই আগাইয়া আসিলে ০১নং আসামী তাহার সঙ্গে থাকা সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারে করিয়া কয়েকজন আসামী উঠাইয়া ও অন্যান্য আসামীগন তাহাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল করিয়া বগুড়া শহরের দিকে পালাইয়া যায়। উক্ত সময় সাক্ষীগন বাদীর ভাইকে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম ও আশংকাজনক অবস্থায় ০১নং সাক্ষীর সিএনজিতে করিয়া ০৫নং সাক্ষী বিশু ইং-০৪/০৫/২০২২ তারিখ রাত্রী ০১.৫৫ ঘটিকার সময় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বাদীর ভাইকে মৃত ঘোষনা করেন। এ সংক্রান্তে বগুড়া সদর থানায় মামলা রুজু হইলে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা বগুড়ায় অর্পণ করিলে বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম সেবা মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব আলী হায়দার চৌধুরী এর তত্ত্বাবধানে ডিবি বগুড়া’র ইনচার্জ মোঃ সাইহান ওলিউল্লাহ, এর নেতৃত্বে ডিবি বগুড়া’র একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ১০/০৫/২০২২ খ্রিঃ রাত্রী অনুমান ০২.৫৫ ঘটিকার সময় বগুড়া সদর থানাধীন মহিষবাথান গ্রামস্থ পূর্বের গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ ওমর খৈয়ম সরকার রোপন @ হাত কাটা রোপন(৪৫), পিতা-মোঃ ওমর ফারুক @ খোকন সরকার ,স্থায়ী: গ্রাম- মহিষ বাথান (সরকারপাড়া),থানা- বগুড়া সদর, জেলা –বগুড়ার বসত বাড়ীর গরুর খামার ভিতর হইতে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত এজাহারনামীয় ০১(এক) জন পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানাঃ
১। মোঃ মুনছুর (২৫), পিতা-মিলন প্রামানিক, মাতা মোছাঃ মুর্শিদা বেগম, স্থায়ী: গ্রাম-মহিষবাথান (সরকারপাড়া), থানা- বগুড়া সদর, জেলা –বগুড়া। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত এজাহারনামীয় পলাতক আসামীকে ০৭(সাত) দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।