দুপচাঁচিয়ায় শ্রমিক সংকটে কৃষকের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

গোলাম মুক্তাদির সবুজ,  বগুড়া  প্রতিনিধি :চলতি মৌসুমে বগুডার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মাঠজুড়ে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন যেন ভাঁটা পড়তে চলেছে বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটে। দেশ জুড়ে বৈরী আবহাওয়ার রোষানলে ও  শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার মাঠজুড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেও কৃষকরা হতাশায় ভূগছেন।
অতিরিক্ত মজুরির পরেও শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকদের চিন্তায় দিন কাটছে। কৃষকরা জানান বিঘা প্রতি বোরো ধান ঘরে তুলতে ৫০০০-৬০০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিনের আগে ঝড়ে নুইয়ে পড়েছে মাঠের কিছু ধান। অনেক খেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে জমিতেই ধানে নতুন গাছ জন্ম নিচ্ছে। একমাত্র অবলম্বন কষ্টের ধান ঘরে তুলতে না পারলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের পথে বসতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২ টি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১১হাজার ৭শত হেক্টর নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬শত হেক্টর ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলার কোলগ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন,  আমি ৭বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। বাম্পার ফলন পাব বলে আশা করছি। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার মাঝে অনেক কষ্টে ৫ হাজার টাকা বিঘা ধরে মাত্র ২৪ শতাংশ জমির ধান কেটেছি। বাঁকি ধান ভালো ভাবে কেটে ঘরে তুলতে পারবো কিনা আল্লাহ তায়ালা জানেন।
উপজেলার হরিন গাড়ি গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, কিছুদিন আগে ঝড়ে  আমার ধান পানিতে নুইয়ে আছে। অতিরিক্ত মজুরিতেও শ্রমিক পাচ্ছি না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজেদুল আলম বলেন,  বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসতে শুরু করেছে কয়েক দিনের মধো শ্রমিক সংকট কেটে যাবে আশা করছি। এর মধ্যে মোট আবাদের জমির প্রায় ৫ শতাংশ কাটা হয়েছে। আমরা কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।