ভারত যে বাংলাদেশকে শোষণের নীলনকশা এঁকেছিল ফারাক্কা,গজলডোবা, টিপাইমুখ বাঁধ তারই প্রমাণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-আজ ১৬ই মে ২০২২ সোমবার সকাল ১১ টায় আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলন’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফারাক্কা লংমার্চের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে পানির আগ্রাসন মোকাবেলার দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলানা শওকত আমীন বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী অনেক সভা, সমাবেশ, চিঠিপত্র চালাচালি করেও কোন সুরাহা না হওয়ায় বিশ্ববাসীর সামনে ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে ফারাক্কা লংমার্চ করেন। বিশ্বের মানুষকে এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিষয়ে জানান দেন। বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সীমান্ত আগ্রাসন, পানির আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনসহ আধিপত্যবাদী সকল আগ্রাসন মোকাবেলায় ফারাক্কা লংমার্চের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের উপদেষ্টা ও নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ৭১’র সহযোগিতার আড়ালে ভারত যে বাংলাদেশকে শোষণের নীলনকশা এঁকেছিল ফারাক্কা, গজলডোবা, টিপাইমুখ বাঁধ তারই প্রমাণ। মেঘ বৃষ্টি ছাড়াই উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে সুরমা, কুশিয়ারা পাড়ের কৃষকের ধানের জমি। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান। ভারতীয় পানির আগ্রাসনের নির্মম শিকার বাংলাদেশের কৃষি এবং কৃষক। ফারাক্কা, গজলডোবা, টিপাইমুখ বাঁধ ও আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মরু করণের ভারতীয় চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্তজার্তিক ফোরামে বাংলাদেশকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। নতজানু পররাষ্ট্র নীতি পরিত্যাগ স্বাধীন পররাষ্ট্র গ্রহণ না করলে কোনদিন পানির অধিকার আদায় হবে না। সীমান্তে নিরস্ত্র নিরীহ বাংলাদেশের নাগরিকদের রক্ষা করতে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন স্বাধীনতাকে অর্থহীন করে তোলে। রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত করতে হবে। সার্বভৌমত্বের লংঘন আমার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার শামিল। তাই বারবার বিএসএফ কতৃর্ক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে লংঘনের বিরুদ্ধে ফারাক্কার চেতনায় জাতিকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জাতীয় জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমান্ডার কাজী সেলিম বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম. এ. জি. ওসমানীর চেতনায় স্বাধীন—সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলে আধিপত্যবাদী আগ্রাসন মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য চাই। বঙ্গবীর এম. এ. জি. ওসমানী ১৯৭১ সালে উপলব্ধি করেছিলেন ভারতের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে চরম মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ফারাক্কা বাঁধ তার একটি প্রমাণ।

আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্য সচিব এয়াকুব শরীফ বলেন, ভারতীয় আধিপত্য মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ভুলুন্ঠিত হয়ে যাবে। এখনো সময় আছে বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, বিএলডিপি’র ভাইস চেয়ারম্যান কবির হোসেন, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান এড. আবুল কাশেম মজুমদার, সিয়াম শাহরিয়ার, সালাউদ্দিন প্রমুখ।